
ওয়াশিংটন: মার্কিন মিড-টার্ম নির্বাচনের ফলাফল এখন সকলের জানা। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং সেনেট – সংসদের দুই কক্ষই এখন ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে ডেমোক্র্যাটরা শপথ নেবে। এরপর আরও আড়াই বছর এভাবেই কাটাতে হবে ট্রাম্পকে। মানে ট্রাম্প বা রিপাবলিকানরা নিজেদের জোরে কোনও বিল বা আইন পাশ করাতে পারবে না। ট্রাম্পের হাতে অস্ত্র বলতে এখন শুধু প্রেসিডেন্সিয়াল ভেটো।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই ভেটোর কথা মনে করিয়ে পোস্টও করেছেন ট্রাম্প। রিপাবলিকানদের বড় বড় প্রার্থী হেরে ভূত। ট্রাম্প বলছেন, তিনি নিজে সরাসরি ভোটের ময়দানে থাকলে ফলাফল উল্টে যেত। মানে দলের বাকিদের উপর তাঁর কোনও ভরসা নেই। এটাই একেবারে চেনা ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মুখে যতই বলুন, মিড -টার্মে এই ধাক্কার পর তাঁর দুটো হাত কার্যত বাঁধা হয়ে গেল।
এবার মার্কিন মিড টার্ম ইলেকশনে টার্নিং পয়েন্ট বলতে একটাই। উলটপুরাণ। ২০২৪ সালে যে সব এলাকায় ট্রাম্প বিপুল সমর্থন পেয়েছিলেন, তাঁরাই এবার তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়েছে। যেখানে রিপাবলিকানদের বড় জয়ের সম্ভাবনা ছিল, সেখানেই তাঁদের হারতে হয়েছে। টেক্সাস, ওহিয়ো, লোয়া, নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, ক্যানসাস। দু- বছর আগে জেতা আসনগুলোতে এবার হেরে ভূত রিপাবলিকানরা।
গোটা আমেরিকাকে যদি দুটো ভাগে ভাগ করা হয়- শহর ও গ্রাম, সেখানেও উলটপুরাণ। দু- বছর আগে শহরে ভোটারদের সমর্থন ছিল ডেমোক্র্যাটদের দিকে। আর গ্রামীণ আমেরিকায় ঢেলে ভোট পেয়েছিল রিপাবলিকানরা। এবার গ্রামীণ আমেরিকায় ট্রাম্পের দলের ভোট কমেছে গড়ে ১২ শতাংশ। শহর এলাকায় সামান্য হলেও ভোট বাড়িয়েছে ওরা। কিন্তু শহরের তুলনায় গ্রামের সংখ্যা তো অনেক বেশি। তাই পুরো অ্যাডভান্টেজ ডেমোক্র্যাটদের ঘরে গিয়েছে। ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই দুনিয়া জুড়ে অঙ্ক কষা শুরু হয়েছে।
ভারতেও নানা মুনির নানা মত। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় হবেন কি না? ট্যারিফ নিয়ে পিছু হটবেন কি না? ইরানে আপাতত হামলা বন্ধ করবেন কি না? প্রশ্ন আর জল্পনা অনেক। তবে এখন সংসদের অঙ্কে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা বোকামি। সেক্ষেত্রে অঙ্ক নাও মিলতে পারে। আপাতত ট্রাম্প প্রশাসনের ভাব-গতিকের উপর নজর রাখতে হবে।