
ওয়াশিংটন: পোশাকি নাম ইউএস-এস থার্টি টু। সাঙ্কেতিক নাম ফারা রু। আর ডাকনাম ফারা থ্রি। ১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বরে দুনিয়ার নজর এড়িয়ে মহাকাশে যায় ফারা থ্রি। খুব বড় আর স্পেশাল একটা দায়িত্ব ছিল ফারা-থ্রি’র উপর। সোভিয়েত রাশিয়ার রেডার সিগন্যালগুলোর গতিবিধি রেকর্ড করা এবং সেটা পেন্টাগনের হাতে তুলে দেওয়া।
১৯৮৮ সাল, মানে সোভিয়েত – আমেরিকা ঠান্ডা যুদ্ধের শেষদিক। তবে সোভিয়েত তখন অটুট। সোভিয়েতের ভিতরে ভাঙনের কথা তখনও দুনিয়ার খুব একটা কেউ জানে না। তেমনই একটা সময়ে ফারা থ্রি-কে মহাকাশে পাঠায় আমেরিকা। ৩৮ বছর পর, এখন সেই মার্কিন স্যাটেলাইট নিয়ে মহা-বিপত্তি। স্যাটেলাইটটা টুকরো টুকরো হয়ে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথিবী থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার ওপরে সেই টুকরোগুলো ভেসে বেড়াচ্ছে এখন।
অনেক স্যাটেলাইটেই এটা হয়। সেগুলো বছরের পর বছর ভেসে থাকতে থাকতে একসময় ধ্বংস হয়ে যায়। ফারাহ-থ্রি’র ক্ষেত্রে কিন্তু সেটা হয়নি। বরং যেটা হচ্ছে তেমন কিছু আগে কখনও হয়নি। স্যাটেলাইটের সবচেয়ে বড় অংশ থেকে একটা অদ্ভুত আলো ঠিকরে বেরচ্ছে। ইউএস স্পেস কম্যান্ডের দাবি, ব্যাপারটা তাঁদের কাছেও ধাঁধার মতো। কেন এটা হচ্ছে, এখনই বলা সম্ভব নয়। আমেরিকা মুখে এটা বললেও ওরা কিন্তু চুপ করে বসে নেই।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি, ফারা-থ্রি’র রহস্যময় আলো ভেদ করতে এই আলোর সোর্স জানতে হবে। সেটা কীভাবে সম্ভব? আলোকে অ্যারেস্ট বা ক্যাপচার করা ছাড়া তো সম্ভব নয়। আর তাই মহাকাশের ইতিহাসে প্রথমবার ভেঙে যাওয়া স্যাটেলাইটকে অ্যারেস্ট করতে পুলিশ পাঠাচ্ছে আমেরিকা। পুলিশ মানে নতুন একটা স্যাটেলাইট যা ওই ভেঙে যাওয়া টুকরোকে পাকড়াও করবে। ইউএস স্পেস কম্যান্ডের সূত্রকে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি, অক্টোবরের শুরুতে মহাকাশে প্রথম ‘গ্রেফতারি’। করবে নাসা, দেখবে দুনিয়া।