Dead Hand system: পুতিন কি সক্রিয় করছেন ডেড হ্যান্ড সিস্টেম? শোরগোল পশ্চিমী দুনিয়ায়

Russian nuclear weapons: রাশিয়ার গোটা পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারে যত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সমস্ত ফায়ার হতে থাকবে পরপর। এই হামলা তখনই গিয়ে থামবে, যখন রুশ পরমাণু অস্ত্রাগার একদম খালি হয়ে যাবে। এইরকম ভয়ঙ্কর প্রত্যাঘাত থেকে বাঁচার সম্ভাবনা বিশ্বের বড় কোনও দেশেরই নেই।

Dead Hand system: পুতিন কি সক্রিয় করছেন ডেড হ্যান্ড সিস্টেম? শোরগোল পশ্চিমী দুনিয়ায়
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনImage Credit source: PTI

Oct 03, 2026 | 12:03 AM

মস্কো: রাশিয়া ফের তাদের অবজেক্ট ১৩৩৫-কে সক্রিয় করেছে। ব্যস এটুকু খবরেই পশ্চিমী দুনিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। উত্তরে সাইবেরিয়া থেকে দক্ষিণে কাজাখস্তান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত উরাল পর্বতমালা রাশিয়াকে ইউরোপ আর এশিয়ায় ভাগ করেছে। সাইবেরিয়ার কাছে উরাল পর্বতমালার উত্তর দিকে রয়েছে কসভিনস্কি কামেন নামে একটা পিক। সেখানেই আছে, অবজেক্ট ১৩৩৫ বা ফেসিলিটি ১৩৩৫। যা আসলে একটা গোপন বাঙ্কার। ঠান্ডাযুদ্ধের সময় তৈরি নিউক্লিয়ার কমান্ড সেন্টার। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সানডে টাইমস এবং দুটি আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থা ডসিয়ার সেন্টার ও ড্যানওয়াচ যৌথভাবে স্যাটেলাইট থেকে তোলা বিভিন্ন ছবি বিশ্লেষণ করে একটা রিপোর্ট দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, রাশিয়া তার এই গোপন নিউক্লিয়ার কমান্ড সেন্টারে বড় আকারে কাজ শুরু করেছে। খোঁড়াখুঁড়ি হচ্ছে। কনস্ট্রাকশন চলছে।

বাঙ্কারের কাছে রয়েছে কিতলিম নামে একটা গ্রাম। সেখানে হাজার হাজার টন লোহা ও ইস্পাত এনে জড়ো করা হয়েছে। পশ্চিমী দুনিয়ার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডুমসডে মাউন্টেনে রাশিয়ার অবজেক্ট ১৩৩৫ আপগ্রেড করার মানেই হল, তারা পরমাণু অস্ত্রবাহী মিসাইলগুলোকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় নিয়ে আসছে। মানে একটা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরমাণু হামলার জন্য আপনা থেকেই উড়ে যাবে মিসাইল। কোনও ম্যানুয়াল কমান্ড লাগবে না। আর এই ব্যাপারটা নিয়েই চিন্তায় পড়ে গেছে ইউরোপ-আমেরিকা, নেটো-পেন্টাগন।

কেন চিন্তা? উরালের এই পাহাড়কে কেনই বা বলা হচ্ছে ডুমসডে মাউন্টেন? কারণ, আমেরিকা-ইউরোপের মতে এখানেই লুকানো আছে রাশিয়ার ডেড হ্যান্ড সিস্টেম। অনেকের মনে হয়তো প্রশ্ন উঠছে, পরমাণু বোমা ফেলা মানে তো যে দেশে বোমা পড়ল, তারা ধ্বংস। তাহলে, পাল্টা মারের তো আর সুযোগ নেই। মানে, প্রথম যে বোমা ফেলবে সেই তো যুদ্ধে জিতে যাবে। না, ব্যাপারটা সেরকম নয়। অন্তত রাশিয়ার ক্ষেত্রে তো নয়ই। সেজন্যই আছে ডেড হ্যান্ড, মৃতের হাত। যার পোশাকি নাম হল পেরিমিটার। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় তৈরি রুশ ব্রহ্মাস্ত্র।

যেমন, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় সবার মৃত্যু হল। প্রত্যাঘাতের জন্য একজনও বেঁচে থাকলেন না। তাহলে কি ইউক্রেন ছাড় পেয়ে যাবে? না, রাশিয়াজুড়ে একজনও সেনা কর্মী, আধিকারিক কিংবা অস্ত্র বিশেষজ্ঞও যদি বেঁচে না থাকেন তাহলেও প্রত্যাঘাত হবেই। আর সেটা যেভাবে হবে, যে স্তরে, যে তীব্রতায় হবে তাতে ইউক্রেনে এক ছটাক জমিও আর আস্ত থাকবে না। কারণ তখন রুশ পরমাণু ভাণ্ডারের দখল নেবে ডেড হ্যান্ড। সোভিয়েত জমানার সেমি-অটোমেটিক নিউক্লিয়ার রিটালিয়েশন সিস্টেম। স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যাবে রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার। দেশজুড়ে বিভিন্ন টপ সিক্রেট লোকেশন থেকে বেরিয়ে আসবে একের পর এক পরমাণু অস্ত্রবাহী মিসাইল। ছুটে যাবে শত্রুর দিকে। তাকে আটকানোর ক্ষমতা তখন কারও থাকবে না। রাশিয়ার গোটা পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারে যত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সমস্ত ফায়ার হতে থাকবে পরপর। এই হামলা তখনই গিয়ে থামবে, যখন রুশ পরমাণু অস্ত্রাগার একদম খালি হয়ে যাবে। এইরকম ভয়ঙ্কর প্রত্যাঘাত থেকে বাঁচার সম্ভাবনা বিশ্বের বড় কোনও দেশেরই নেই। সেখানে ইউক্রেন তো কোন ছাড়।

সাবেক সোভিয়েতের মাথারা আশঙ্কা করতেন যে আমেরিকা যে কোনও সময়ে পরমাণু বোমা ফেলতে পারে তাঁদের দেশের উপর। সেই হামলায় সবার মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু এমনটা ঘটলেও যাতে প্রত্যাঘাত করা যায়, সেই লক্ষ্যেই তৈরি হয় ডেড হ্যান্ড সিস্টেম। রাশিয়ায় পরমাণু হামলা হলে মাটিতে যে ব্যাপক কম্পন অনুভূত হবে, বাতাসে যে তেজস্ক্রিয়তা ছড়াবে এবং বায়ুমণ্ডলে যে বাড়তি চাপ তৈরি হবে-সেইসমস্ত রিডিং মেপে কমান্ড সেন্টারকে এই সিস্টেম জানিয়ে দেবে যে দেশে পরমাণু হামলা হয়েছে। তেজস্ক্রিয়তা নিরোধক বাঙ্কারে থাকা সেনার সামান্য কয়েকজন অফিসার সেই বার্তা পেলেই নিউক্লিয়ার আর্সেনাল শত্রুর উপর খালি করে দেবেন। যদি এমন হয় যে বাঙ্কারে যাঁরা আছেন তাঁরাও পরমাণু হামলায় মারা গেলেন। তাহলে নিজে থেকেই সিস্টেম চালু হয়ে যাবে। অটোমেটিক প্রোটোকল পাঠিয়ে দেবে পরমাণু হামলার লঞ্চ কোড। সেই লঞ্চ কোড, যেসমস্ত রণতরী, যুদ্ধবিমান বা মিসাইলের পরমাণু হামলা চালানোর ক্ষমতা আছে, তাদের অ্যাকটিভেট করে দেবে। শুরু হয়ে যাবে পাল্টা প্রলয়। পশ্চিমী দুনিয়ার যুদ্ধ বিশারদরা বলছেন, পুতিন আসলে যুদ্ধ সারা ইউরোপে ছড়িয়ে দিতে চাইছেন। আর সেজন্য ঘরের মাটিতে রাখতে হচ্ছে ডুমসডে-র প্রস্তুতি।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us