
নয়া দিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট বাড়ছে বই কমছে না। ভারতেও অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই সরকার সতর্ক করেছে। বাড়ানো হয়েছে সোনা-রুপোর উপরে আমদানি শুল্ক। স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়েছে সোনা-রুপোর (Gold-Silver Price)। পরের ধাক্কা কি লাগবে জ্বালানিতে? এমনটাই মনে করা হচ্ছে। একধাক্কায় অনেকটা বাড়তে পারে পেট্রোল-ডিজেল (Petrol-Diesel) থেকে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম (LPG Cylinder Price)।
সোনা-রুপোর উপরে আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এরপরেই সোনা-রুপোর দাম বেড়েছে। এবার তেল ও জ্বালানিতেও এই প্রভাব পড়তে চলেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ব জুড়ে তেল ও জ্বালানি সরবরাহ বিপর্যস্ত হচ্ছে। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দামও অনেকটাই বেড়েছে।
ভারতের জন্য জ্বালানির দাম বৃদ্ধি যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ ভারত নিজেদের তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ইতিমধ্যেই জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলেছেন। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে, গণপরিবহন ব্যবহার করার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও জ্বালানি বাঁচাতে কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এসপিজি-কে ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহার করতে বলেছেন। অফিসগুলিতে আবার ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু এবং স্কুলগুলিতেও সম্ভব হলে অনলাইন ক্লাসের কথা বলেছেন।
দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্রতিদিন প্রায় অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি ১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিশ্ববাজারে ক্রুড তেলের দাম বাড়লেও, ভারতে এখনও পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। ক্রমাগত ক্রুড তেল ও পেট্রোলের দামের পার্থক্য চওড়া হচ্ছে। যদি এখনই কোনও পদক্ষেপ না করা হয় এবং পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট জারি থাকে, তাহলে বড়সড় আর্থিক ধাক্কা লাগতে পারে। তাই পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি কোনওভাবেই এড়ানো সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
আগেই শোনা গিয়েছিল যে মে মাসের মাঝামাঝি পেট্রোল-ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা বাড়তে পারে। এলপিজি সিলিন্ডারের দামও অন্তত ৫০ টাকা বাড়তে পারে।
তবে মঙ্গলবারই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী আশ্বস্ত করে বলেছেন, “দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের কোনও ঘাটতি নেই। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আর্জিকে ওয়েক আপ কল হিসাবে দেখা উচিত।”