
কলকাতা : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ পড়েছে ভারতের শেয়ার বাজারে। যুদ্ধ লাগা ইস্তক ইরান, ইজরায়েলের মতো রক্তাক্ত হচ্ছে দালাল স্ট্রিটও। সপ্তাহের প্রথম দিনও ব্য়তিক্রম হল না। তবে বাজার খুলতেই একটু সবুজ রং দেখা গিয়েছিল। বেশ কিছু শেয়ার উর্দ্ধমুখী হয় কিন্তু বেশকিছু শেয়ার volatile থাকে। এরমধ্যেই দেখা গেল বন্ধন ব্যাঙ্কের শেয়ারে বিপুল ধস। লোয়ার সার্কিট স্পর্শ করে এই বেসরকারি ব্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কেন এমন ধস?
সূত্রের খবর, ‘বন্ধন ফিনান্সিয়াল সার্ভিস’-এর মাধ্যম দিয়ে বেশ কিছু শেয়ার বেচতে চলেছে বন্ধন ব্যাঙ্কের প্রোমোটার। এমন খবর বাজারে রটতেই শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ে। ইকোনমিক টাইমসের মতে, দিন কয়েক আগেই বন্ধন ব্যাঙ্কের প্রোমোটার সংস্থা ‘বন্ধন ফিনান্সিয়াল সার্ভিস’ নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ সুনিশ্চিত করার জন্যই বিখ্যাত ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার ‘জেফ্রিস’কে নিয়োগ করেছে। মনে করা হচ্ছে, বন্ধন ব্যাঙ্কের বিদেশী বিনিয়োগকারীদের হাতে মুনাফা তুলে দিতেই শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করছে সংস্থা। এই মুহূর্তে প্রোমোটারের হাতে রয়েছে ৩৯.৭৪ শতাংশ শেয়ার।
প্রোমোটার কত শতাংশ শেয়ার রাখতে পারে?
RBI-এর নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত কোম্পানিতে একজন প্রোমোটার বা মূল বিনিয়োগকারী সংস্থা সর্বোচ্চ একটি কোম্পানির ৭৫ শতাংশ শেয়ার নিজের কাছে রাখতে পারে। কিন্তু ব্য়াঙ্কিং সেক্টরে এই নিয়মটি ভিন্ন। ২৬ শতাংশ শেয়ার রাখতে পারে প্রোমোটার। কিন্তু বন্ধন ব্য়াঙ্কের কাছে আছে ৩৯.৭৪ শতাংশ শেয়ার তাই এটি কমাতেই হত।
এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের একটা প্রভাব তো রয়েছেই শেয়ারবাজারে। বিনিয়োগকারীরা বেশি ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। শেয়ার বিক্রি করে নিরাপদ বিনিয়োগের পথে হাঁটছে F.I.I । ইতিমধ্য়েই বিপুল কারেকশন হয়েছে ব্য়াঙ্কিং সেক্টরে। বন্ধন ব্য়াঙ্ক গত এক বছরে ৩০ শতাংশ বাড়লেও সোমবার একদিনেই পড়ল ১০ শতাংশ। এরপর কী ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বন্ধন ব্য়াঙ্ক? এখন এটাই বড় প্রশ্ন।