
নয়া দিল্লি : সকাল সকাল চা যেমন প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন টা-ও। আর বেশিরভাগ বাড়িতেই টা মানেই কিন্তু বিস্কুট (Biscuit Price Hike)। সেক্ষেত্রে বাঙালি বাড়িতে টা-এর তালিকা দীর্ঘ হলেও চা-বিস্কুট-ই সেরা জুটির তকমা পায়। কিন্তু, এবার বিস্কুট কিনতে গেলেই খসবে মোটা টাকা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে (West Asia Conflict) একাধিক জিনিসের দাম বেড়েছে। এবার কোপ পড়ল বিস্কুটের উপর। তবে, একটি বড় প্রতিষ্ঠানের বিস্কুটের দাম বাড়তে চলেছে। শুধু দাম বাড়বেই না, ওজনও কমানো হবে।
বিস্কুটের দাম বাড়াতে চলেছে ব্রিটানিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ (Britannia Industries)। মূলত, বিস্কুটের বড় প্যাকেটগুলোর দাম বাড়ছে। ১০ টাকা বা ১০টাকার কমে যে বিস্কুটের প্যাকেটগুলি রয়েছে, সেগুলির দাম অপরিবর্তিত থাকছে। ১০টাকার বেশি দামের বিস্কুট প্যাকেট কিনতে গেলেই বেশি টাকা খসবে। এই ত্রৈমাসিকে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে দাম। তবে, ছোট প্যাকেটগুলোর দাম না বাড়লেও, বিস্কুটের পরিমাণ কমানো হবে। এমনটাই জানিয়েছেন কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও। সাধারণত কোম্পানির সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ব্রিটানিয়ার নিট মুনাফা ২১ শতাংশ বাড়লেও রাজস্ব (৪,৬৮৬ কোটি টাকা) বাজারের প্রত্যাশার থেকে কম হয়েছে। ফলে, শেয়ার বাজারে কোম্পানির শেয়ারের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে ৫ হাজার ৫৭১ টাকায় পৌঁছেছে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে ভারতে কেন বিস্কুটের দাম বাড়ছে? প্রকৃতপক্ষে, বিস্কুট তৈরিতে ব্যবহৃত পাম তেল, জ্বালানি এবং মাল পরিবহনের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ফলে পরিবহন এবং কাঁচামালের খরচ বেড়েছে। যদিও গমের দাম কিছুটা কমেছে। সামগ্রিক খরচের চাপ কোম্পানির মুনাফার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিইও হারগাভের মতে, কোম্পানি আগামী পাঁচ মাসের জন্য পাম তেলের চুক্তি ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে। যা তাঁদের যে কোনও আর্থিক ধাক্কা থেকে রক্ষা করবে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের মুনাফার ঠিক রাখার জন্য দাম বাড়ানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ করছে।
এছাড়া বাজারে অনেক সস্তা বিস্কুট রয়েছে, যার ফলে ব্রিটানিয়ার বিক্রি কমছে। দাম বাড়ানোর এটাও একটা কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও একটা কারণ হিসেবে উঠে আসছে, মার্চ মাসে হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ব্রিটানিয়ার আন্তর্জাতিক ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পণ্যবাহী জাহাজের অভাবে সংস্থাটি বিদেশে বিস্কুট পাঠাতে পারেনি। ফলে বৈদেশিক আয় ও মুনাফাকে প্রভাবিত করেছে। এই সংকট মোকাবিলায় ব্রিটানিয়া ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিক থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামও বাড়াচ্ছে।