Budget Planning: মাস শেষের আগেই পকেট খালি? এই অভ্যাসেই দ্রুত তৈরি হবে ফান্ড

Personal Finance Management: মাসের গোড়াতেই নির্ধারণ করুন কোন তালিকায় কত খরচ করবেন। মাসের শেষে মিলিয়ে দেখুন যে প্রকৃত খরচ (actual) নির্ধারিত বাজেটের থেকে কতটা তফাৎ। আর্থিক লক্ষ্যপূরণে বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট বাড়তি টাকা না থাকলে রাশ টানতে হবে খরচের উপরে।

Budget Planning: মাস শেষের আগেই পকেট খালি? এই অভ্যাসেই দ্রুত তৈরি হবে ফান্ড
প্রতীকী চিত্র।Image Credit source: Canva

|

May 07, 2026 | 1:21 PM

শমিতা সাহা, সেবি শংসায়িত বিশেষজ্ঞ

বাজেটিং এর অর্থ হল আপনার মাসিক ইনকাম এবং খরচের হিসেব-নিকেশ রাখা। বাজেটিং আর্থিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাধারণত বর্তমানের খরচ মিটিয়ে যা থেকে যায়, সেটা জমানো হয় ভবিষ্যতের খরচের জন্য। যেটাকে আমরা সেভিংস বলি। কিন্তু আপনার সেভিংস ভবিষ্যতের আর্থিক লক্ষ্য পূরণের জন্যে যথেষ্ট কি না, সেটা মূল্যায়ন করার জন্য প্রয়োজন বাজেটিং। ধরুন, আপনি ভবিষ্যতে একটি আর্থিক লক্ষ্যের জন্য জমা করছেন মাসিক ১৫০০০, কিন্তু বিনিয়োগের সুদের হার এবং মেয়াদ সহ দেখা গেল মাসিক ২০,০০০ টাকা জমালে লক্ষ্যপূরণ সম্ভব। সে ক্ষেত্রে আপনাকে নিজের বাজেট নতুন করে সাজাতে হবে । বাড়তি খরচ কমিয়ে এবং সেভিংস বাড়িয়ে সঠিক বিনিয়োগ করতে হবে।

কীভাবে করবেন বাজেটিং, জেনে নেওয়া যাক-

সচরাচর মাসিক আয় নির্দিষ্ট থাকে, কিন্তু মাসিক খরচের ঠিক থাকে না। আয় এবং খরচের হিসাবের তালিকা করে ফেলতে পারলে বিষয়টি অনেক স্পষ্ট হবে। সবার প্রথমেই লিখে ফেলুন, মাসে নিশ্চিত আয় কত -বেতন, বাড়ি ভাড়া বাবদ, ব্যবসা থেকে লাভ- যা কিছুই হতে পারে। এইবারে লিখুন আপনার মাসে খরচ কত। খরচের দুটি প্রধান তালিকা থাকবে- প্রয়োজনীয় খরচ (essential) এবং প্রয়োজন ব্যাতিত (discretionary) খরচ। প্রয়োজনীয় খরচ অপরিহার্য যেমন বাড়িভাড়া বা EMI, খাবারের খরচ, বাচ্চাদের স্কুল ফি, আর যাবতীয় খরচ যা না করলেই নয়। প্রয়োজন ব্যাতিত খরচ হল সেই খরচগুলি যা না করলেও চলতে পারে, যেমন প্রয়োজনের অতিরিক্ত শপিং, হুটহাট খরচ যা সাময়িকভাবে সুখকর হলেও এড়ানো সম্ভব।

মাসের গোড়াতেই নির্ধারণ করুন কোন তালিকায় কত খরচ করবেন। মাসের শেষে মিলিয়ে দেখুন যে প্রকৃত খরচ (actual) নির্ধারিত বাজেটের থেকে কতটা তফাৎ। আর্থিক লক্ষ্যপূরণে বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট বাড়তি টাকা না থাকলে রাশ টানতে হবে খরচের উপরে। অন্যথা বাড়তি ইনকামের ব্যবস্থা করতে হবে অথবা দুটোই করতে হতে পারে।

সঠিক বাজেটিং এর জন্য রইল কিছু টিপস:

  •  মাসের প্রথমেই একটি বাস্তবসম্মত বাজেট প্ল্যানিং করুন
  •  প্রয়োজন মতো বাজেট ট্রাক্যার অ্যাপ ব্যবহার করুন
  •  রশিদ, পেট্রল বিল, ফুড বিল ফেলে না দিয়ে কিছু মাস রেখে দিন -কর্মস্থানে রিইমবার্সমেন্ট এর সুবিধা থাকলে কাজে লাগান
  •  মাসের শেষে পুরো মাসের খরচ আপডেট করে বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন
  •  যদি আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয়, তার মানে ধার দেনায় চলছে। এই ভাবে চললে আর্থিক লক্ষ্য পূর্ণ হবে না, তাই ধার দেনা মিটিয়ে খরচ আয়ত্তে আনার চেষ্টা করুন।
  •  আর্থিক পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি যথেষ্ট সেভিংস না থাকে, তাহলে তিনটি উপায় আছে আপনার সামনে- খরচ কমানো, আয় বাড়ানো অথবা দুটোই।
  •  মাসে একটা করে “নো স্পেন্ডিং উইক” রাখুন – খুব প্রয়োজন ছাড়া সেই সপ্তাহে কোনো বাড়তি খরচ করবেন না। সন্তানদের কে এই অ্যাকটিভিটিতে সামিল করুন। খেলাচ্ছলে বাজেটিং এর গুরুত্ব শিখে যাবে তারা। ঠিক মতো টানা কিছু মাস বাজেটিং করতে পারলে, একটা প্যাটার্ন খুঁজে পাবেন। যখন দেখবেন আপনি চিন্তা না করেই মনে মনে সমস্ত টাকার হিসাব রাখতে পারছেন, স্বাভাবিকভাবেই আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে, আর্থিক লক্ষ্যপূরণের দিকে আরও সহজে এগিয়ে হবেন। খরচে রাশ টানার মানে নিজের ইচ্ছে চেপে রাখা নয়, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং  নিজের লক্ষ্যপূরণের দিকে অগ্রসর হওয়া।
Follow Us