
নয়া দিল্লি : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে জ্বালানিতে জ্বালা বাড়ছে। প্রায় তিন মাস ধরে অস্থির পরিস্থিতি। কিন্তু, প্রথমে পেট্রোল-ডিজ়েলের দাম বাড়ায়নি কেন্দ্র। কিন্তু,এখন পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে পেট্রোল-ডিজেলের (Petrol-Diesel price) দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুধু তাই নয়, অস্থির অবস্থা যত দীর্ঘায়িত হবে, তত পেট্রোল-ডিজ়েলের দাম বাড়বে। সেক্ষেত্রে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে, আরেকটি বিকল্প আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। আর তা হল গ্রিন হাইড্রোজেন (Green Hydrogen)। কোম্পানিগুলো এবং সরকার গুরুত্ব সহকারে এটি নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু, প্রশ্নউঠছে হাইড্রোজেন কি সত্যিই পেট্রোল ও ডিজেলের ভবিষ্যৎ হয়ে উঠতে পারবে?
হাইড্রোজেন কোনও নতুন প্রযুক্তি নয়। এটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। কিন্তু এখন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে, কারণ এটিকে একটি পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি প্রধানত ফুয়েল সেল ইলেকট্রিক ভেহিকল (FCEV) প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়। এই প্রযুক্তিতে, হাইড্রোজেন অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এবং যানবাহনকে চলতে সাহায্য করে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি কোনও ধোঁয়া বা বিষাক্ত গ্যাস নির্গত করে না। এর একমাত্র বর্জ্য হল বাষ্প।
গ্রিন হাইড্রোজেনকে সবচেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, ধূসর ও নীল হাইড্রোজেন জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উৎপাদিত হয়, যা উচ্চতর কার্বন নিঃসরণ করে। এর অর্থ হল, হাইড্রোজেনকে যদি সত্যিই পরিবেশবান্ধব হতে হয়, তবে এটিকে সাশ্রয়ী এবং ব্যাপকভাবে সহজলভ্য করতে হবে।
অনেকেই মনে করেন হাইড্রোজেন একটি বড় সমাধান, কিন্তু তা সত্যি নয়। ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো হাইড্রোজেন কোনও সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যেসব ক্ষেত্রে ভারী ব্যাটারি একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় অথবা দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করার প্রয়োজন হয়, সেসব ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন আরও বেশি উপযোগী হতে পারে।
ভারত হাইড্রোজেন খাতে প্রাথমিক পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে। ২০২৩ সালে, সরকার ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন চালু করেছে। যার জন্য প্রায় ১৯ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়। সরকারের লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন করা। এছাড়াও, দেশের তুতিকোরিন, পারাদ্বীপ এবং কান্দলার মতো বেশ কয়েকটি বন্দর-ভিত্তিক কেন্দ্রকে হাইড্রোজেন উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বেসরকারি ও সরকারি সংস্থাগুলোও এই দিকে দ্রুত কাজ করছে।
হাইড্রোজেন রাতারাতি পেট্রোল, ডিজেল বা বৈদ্যুতিক গাড়ির জায়গা নেবে না। কিন্তু একে উপেক্ষা করাও ঠিক নয়। বিশ্ব যখন ক্রমবর্ধমান তেলের দাম এবং জ্বালানি সুরক্ষার মতো চ্যালেঞ্জের সঙ্গে লড়াই করছে,তখন হাইড্রোজেন একটি কৌশলগত বিকল্প হতে পারে। যদি খরচ কম হয়, পরিকাঠামো শক্তিশালী হয় এবং গ্রিন হাইড্রোজেন ব্যাপকভাবে সহজলভ্য হয়, তবে এটি আগামীদিনে ভারতের পরিবেশবান্ধব পরিবহন নীতির একটি মূল অংশ হয়ে উঠতে পারে।