
কলকাতা: সাধারণত অনেকেই কর্মক্ষেত্র থেকে স্বাস্থ্যবীমা বা কর্পোরেট পলিসি পেয়ে থাকেন। তবে আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে অনেকে আলাদাভাবে ব্যক্তিগত পলিসিও করে রাখেন। কর্পোরেট স্বাস্থ্যবীমার কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে, যেমন, কভারেজের লিমিট, কিছু রোগের চিকিৎসায় বিধিনিষেধ এবং চাকরি বদলালে পলিসি হারানোর ঝুঁকি। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আলাদা ব্যক্তিগত পলিসি রাখলে আর্থিক দিক থেকে অনেকটা ব্যালান্সড থাকা যায়। তবে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে, একই চিকিৎসার জন্য কি দুটি পলিসিই ব্যবহার করা সম্ভব? এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন এবং কোন প্রক্রিয়ায় এটি করা উচিৎ, তা জেনে নেওয়া যাক।
কী জানা গিয়েছে?
পলিসিবাজারের হেলথ ইনস্যুরেন্সের প্রধান সিদ্ধার্থ সিঙ্ঘাল জানিয়েছেন, একই হাসপাতালে একই বিলে কর্পোরেট ও ব্যক্তিগত – দুই পলিসি থেকেই ক্লেম করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন,“যদি চিকিৎসার মোট খরচ একটি পলিসির কভারের চেয়ে বেশি হয়, তবে আপনি অন্য পলিসি থেকে বাকি টাকা ক্লেম করতে পারেন।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কারও একাধিক স্বাস্থ্যবীমা থাকলে তাকে অবশ্যই উভয় সংস্থাকে অন্য পলিসির বিষয়ে জানাতে হবে। সিঙ্ঘাল জানান, “ভবিষ্যতে কোনও জটিলতা এড়াতে বা ক্লেম খারিজ হওয়া থেকে বাঁচাতে এটি খুব জরুরি। একই সঙ্গে অন্য পলিসির নাম লুকিয়ে যাওয়াটাও কিন্তু পলিসির ক্লেম বাতিলের অন্যতম কারণ।” তবে প্রথম ইনস্যুরেন্স সংস্থাকে দ্বিতীয় পলিসির ব্যাপারে জানানো হলে সেটলমেন্টে কোনও প্রভাব পড়বে কি না – এই প্রশ্নে তিনি জানান, এতে ক্লেমের ওপর কোনও নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট পড়বে না।
এটি কিভাবে কাজ করে?
ধরুন, কারও হাসপাতালের মোট বিল হল ৮ লক্ষ টাকা। যদি তাঁর কর্পোরেট পলিসিতে ৫ লক্ষ টাকার কভার থাকে, ও ব্যক্তিগত পলিসিতেও ৫ লক্ষ টাকার কভার থাকে, তাহলে প্রথমে ক্যাশলেস বা রিইম্বার্সমেন্টের মাধ্যমে কর্পোরেট পলিসি থেকে ৫ লক্ষ টাকা ও ব্যক্তিগত রিটেল পলিসি থেকে ৩ লক্ষ টাকা মেটানো যেতে পারে। পলিসিহোল্ডারকে প্রথম বীমা সংস্থায় সমস্ত অরিজিনাল বিল ও নথি জমা দিতে হবে ও ২য় বার ক্লেমের সময় প্রথম সংস্থার সেটেলমেন্ট সামারি সহ সার্টিফায়েড কপি জমা দিতে হবে। তবে প্রথম পলিসির অস্তিত্ব বা আগের ক্লেমের কথা যদি দ্বিতীয় বীমা সংস্থাকে জানানো না হয় বা দুই বীমা সংস্থা থেকে একই খরচ দুই বার ক্লেম করা হয়, তাহলেই এই ক্লেমগুলি বাতিল করা হয়।