
নয়া দিল্লি: চিকিৎসার খরচের টাকা পাওয়ার জন্য এবার থেকে আর বিল জমা দিতে হবে না। বিল ছাড়াই চিকিৎসার খরচ পাবেন কেন্দ্রীয় সরকারের পেনশনভোগীরা। ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেমে নথিভুক্ত পেনশনভোগীদের জন্য ফিক্সড মেডিকেল অ্যালাউন্স প্রক্রিয়া আরও সহজ করল কেন্দ্র। এবার থেকে চিকিৎসা খরচের বিল জমা দিতে হবে না। পরিবর্তে, টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া
অর্থমন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে ফিক্সড মেডিকেল অ্যালাউন্স প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা হবে। অর্থাৎ, পেনশন বিতরণকারী ব্যাঙ্কগুলো তাদের সেন্ট্রাল পেনশন প্রসেসিং সেন্টার (সিপিপিসি)-এর মাধ্যমে এই অর্থ সরাসরি পেনশনভোগীর অ্যাকাউন্টে জমা করে দেবে। সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, এখন থেকে আর কোনও কাগজপত্র দেখাতে হবে না। সেক্ষেত্রে যাঁদের বয়স হয়েছে, সেইসব পেনশনভোগীদের জন্য সরকারের এই পদক্ষেপ স্বস্তির খবর বলা যেতে পারে।
প্রতি তিন মাসে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সেন্ট্রাল পেনশন অ্যাকাউন্টিং অফিস (CPAO) প্রথমে পেনশনভোগীর যোগ্যতা যাচাই করবে। এরপর, ব্যাঙ্ককে একটি স্পেশাল সিল অথোরিটি প্রদান করা হবে। তারপর প্রতি তিন মাস অন্তর (ত্রৈমাসিক) অর্থ সরাসরি পেনশনভোগীর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হবে। এর অর্থ হল, এখন কোনও ঝামেলা ছাড়াই তিন মাস অন্তর টাকা পাওয়া যাবে।
জীবন শংসাপত্র বাধ্যতামূলক
তবে, এই সুবিধাটি পেতে হলে পেনশনভোগীদের প্রতি নভেম্বর মাসে একটি জীবন শংসাপত্র বা লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। এই শংসাপত্রটি ডিজিটালভাবে বা সশরীরে জমা দেওয়া যেতে পারে। সময়মতো জীবন শংসাপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হলে ডিসেম্বর মাস থেকে অর্থ প্রদান স্থগিত হয়ে যেতে পারে।
ব্যাঙ্কের শাখা পরিবর্তন
যদি পেনশনভোগী তাঁর ব্যাঙ্ক বা শাখা পরিবর্তন করেন, তাহলে নির্দেশিকা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে। যাতে অর্থপ্রদানে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে।
মৃত্যুর পর পরিবারের জন্য সুবিধা
পেনশনভোগীর মৃত্যুর পরেও পরিবারের সদস্যরা এই সুবিধা পাবেন। যদি পরিবারের সদস্যের নাম আগে থেকেই নথিভুক্ত থাকে, তবে তাঁরা ব্যাঙ্কে ডেথ সার্টিফিকেট জমা দিয়ে সরাসরি ফিক্সড মেডিকেল অ্যালাউন্স চালু করতে পারবেন। যদি নাম নথিভুক্ত না থাকে,তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে নতুন করে অনুমতি নিতে হবে।