
কলকাতা : মাসের ইএমআই কাটার নির্দিষ্ট দিন চলে এসেছে, কিন্তু আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটল না। বা ধরুন, আপনার ব্যাঙ্কে ইএমআই দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত টাকা নেই। বা কখনও ব্যাঙ্কের সমস্যা হতে পারে। এর ফলে ইএমআই অটো ডেবিট ব্যর্থ হতে পারে। ইএমআই বাউন্স হলে প্রথম কাজ হল যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়া। পরবর্তী অটো ডেবিটের অপেক্ষা না করাই ভাল।
তবে একটি ইএমআই বাউন্স হলেই যে ঋণ বাড়বে বা সিভিল স্কোর খারাপ হবে বা পয়েন্ট কমে যাবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। আসল সমস্যা শুরু হয় যখন ইএমআই দীর্ঘ সময় বকেয়া থাকে ও ঋণদাতা সেই লেট হওয়ার ক্রেডিট ইনফরমেশন কোম্পানিগুলিকে রিপোর্ট করেন।
ইএমআই বাউন্স হলে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হতে পারে –
ইএমআই বাউন্সের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে আপনার পকেটে। ঋণের চুক্তি ও ঋণদাতার নিয়ম অনুযায়ী, ইএমআই এর সঙ্গে বাউন্স চার্জ বা রিটার্ন চার্জ দিতে হতে পারে। টাকা বকেয়া থাকলে সুদও দিতে হতে পারে। আরবিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী, ঋণদাতাদের পেনাল চার্জেস এর পরিমাণ ও তা নেওয়ার কারণ জানাতে হয়। এই ধরণের পেনাল চার্জকে অতিরিক্ত পেনাল ইন্টারেস্ট হিসেবে মূল ঋণের সঙ্গে যোগ করে তার উপর আবার সুদ নেওয়া যায় না। হিসাব করা হয়।
ইএমআই কতদিন ডিউ থাকলে সমস্যা বাড়ে?
শুধু ইএমআই বাউন্স হলেই Bank Loan NPA হয়ে যায় না। RBI-এর নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে term loan এর ক্ষেত্রে principal বা interest ৯০ দিনের বেশি সময় overdue থাকলে সেটিকে NPA হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে ইএমআই বাউন্স হলে কী কী করবেন?
১) কেন টাকা ডেবিট হল না, খুঁজে বের করুন। পর্যাপ্ত টাকা নেই নাকি ব্যাঙ্কের কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা, সেটা জানুন।
২) লোনদাতার নিশ্চিত করা পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করে টাকা জমা দিন। পেমেন্টের প্রমাণ রেখে দিন।
৩) যদি পর্যাপ্ত ব্যালান্স থাকা সত্ত্বেও ইএমআই না কাটা হয়, তাহলে সংস্থার কাছে অভিযোগ করুন। সব কপি রেখে দিন।
৪) পেমেন্ট করার পর চেক করুন আপনার বাকি থাকা অর্থের পরিমাণে কোনও পরিবর্তন এসেছে কি না।
একবার ইএমআই বাউন্স হওয়া সাধারণত সামলানো যায়। কিন্তু সেই বকেয়া ইএমআই কে অবহেলা করে অনেকদিন ফেলে রাখলে অতিরিক্ত চার্জ, ওভারদিয়া স্ট্যাটাস ও পরবর্তীতে লোন নিতে গেলে বিপাকে পড়তে পারেন।