
নয়া দিল্লি: চাকরিজীবীদের ভবিষ্যতের সঞ্চয়ের ফান্ড এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফ (EPF)। জরুরি কোনও পরিস্থিতিতে অবসরের আগেও পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা যায়। সম্প্রতি ইপিএফও গ্রাহকদের জন্য পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার নিয়মে সরলীকরণ করেছে। আগে একাধিক ক্যাটেগরি ছিল পিএফ থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে, এখন তা সহজ করতে মাত্র তিনটি গ্রুপ বা শ্রেণি তৈরি করা হয়েছে। শীঘ্রই এটিএম থেকে এবং ইউপিআই-র মাধ্যমেও পিএফের টাকা তোলা যাবে।
অবসরের আগে পিএফ-র উইথড্রল বা টাকা তোলার ক্ষেত্রে যে কারণ দর্শাতে হত, তাতে আগে ১৩টি কারণ দেওয়া ছিল। এতে টাকা তোলার প্রক্রিয়া অনেকটাই জটিল হয়ে যেত। তবে এবার তা একত্রীকরণ করে মাত্র তিনটি কারণ রাখা হয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন (Essential Needs), বাড়ি তৈরির প্রয়োজন (Housing Needs) ও বিশেষ পরিস্থিতি (Special Circumstances)। এই তিনটি কারণের মধ্যে যে কোনও একটি দেখিয়ে পিএফ থেকে টাকা তোলা যায়।
নতুন নিয়মে পিএফের গ্রাহকরা এখন তাদের এলিজেবল পিএফ ব্যালেন্সের ১০০ শতাংশই তুলতে পারবেন। অর্থাৎ এমপ্লয়ি ও এমপ্লয়ার- উভয়ের অনুদান (contributions) থেকেই টাকা তোলা যাবে। এছাড়া অবসরের পর, ৫৮ বছর বয়স পার হলে বা কেউ যদি স্বেচ্ছাবসর (voluntary retirement) নেন, তাহলেও সম্পূর্ণ টাকা তোলা যাবে।
এছাড়া যদি কোনও পিএফ গ্রাহক বিশেষভাবে সক্ষম হন, কাজ করতে অক্ষম হয়ে যান বা পাকাপাকিভাবে বিদেশ চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলেও পিএফ অ্য়াকাউন্ট থেকে সম্পূর্ণ টাকা তুলে নেওয়া যায়।
যদি কোনও কারণে চাকরি চলে যায়, কোনও ব্যক্তি বেকার হয়ে যান, তাহলে তারা সঙ্গে সঙ্গেই পিএফ ব্যালেন্সের ৫ শতাংশ পর্যন্ত টাকা তুলে নিতে পারবেন। যদি ১২ মাস পরও কোনও ব্যক্তি চাকরি না পান, তাহলে বাকি ২৫ শতাংশ টাকাও তুলে নেওয়া যায়।
পিএফ থেকে এখন আংশিক টাকা তোলা এখন আরও সহজ হয়ে গিয়েছে। অসুস্থতা, শিক্ষা, বিয়ে বা বাড়ি তৈরির জন্য পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বাধিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত টাকা তোলা যায়। ১২ মাস চাকরি করলেই এখন পিএফ থেকে টাকা তোলা যায়।
শিক্ষার জন্য সর্বাধিক ১০ বার টাকা তোলা যায়। বিয়ের জন্য সর্বাধিক ৫ বার টাকা তোলা যায়। নিজের জন্য, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও মা-বাবার চিকিৎসার জন্যও পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা যাবে। ক্যানসার বা টিবির মতো রোগের জন্যও পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা যায়। একটি অর্থবর্ষে পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বাধিক তিনবার টাকা তোলা যায়।