
নয়া দিল্লি: অক্টেবর মাস থেকেই আপনার পে-স্লিপে আসতে পারে বদল। সম্প্রতিই এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডে এসেছে বড় বদল। বাধ্যতামূলক বেতনের সর্বোচ্চ সীমা বা ওয়েজ সিলিং (Wage Ceiling) ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। আর এর জেরেই পে-স্লিপে হতে পারে পরিবর্তন। কমে যেতে পারে ইন-হ্যান্ড স্যালারি।
ওয়েজ সিলিং বা বেতনের সীমায় পরিবর্তন আনার ফলে দেশের প্রায় ৫১ লাখ নতুন কর্মচারী এই সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আসবেন। তারাও ইপিএফও-র অধীনে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
যেসব কর্মচারীদের মূল বেতন (Basic Salary) ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে, তাদের টেক-হোম বা হাতে পাওয়া বেতনে কিছুটা কাটছাঁট হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে অবসরের তহবিল অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে এই নতুন নিয়মে। ভবিষ্যৎ আরও সুরক্ষিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১২ শতাংশ হারে পিএফ কাটা হয়। আগে ১৫,০০০ টাকার বেতনের সীমায় পিএফে অনুদান বা কন্ট্রিবিউশন বাবদ ১,৮০০ টাকা কাটা হত। নতুন নিয়মে ২৫,০০০ টাকা বেতনের সীমা অনুযায়ী কাটা হবে টাকা। এই টাকার অঙ্কের পরিমাণ বেড়ে সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
যারা এই নতুন নিয়মের অধীনে প্রথমবার পিএফ-এর আওতায় আসছেন, তাদের মাসে সর্বোচ্চ ১,২০০ টাকা পর্যন্ত ইন হ্যান্ড স্যালারি বা হাতে পাওয়া বেতন কমতে পারে। তবে যারা ইতিমধ্যেই নিজেদের পুরো মূল বেতনের উপরে ভিত্তি করে পিএফে টাকা জমা করছিলেন, তাদের হাতে পাওয়া বেতনে বিশেষ কোনও পরিবর্তন আসবে না।
নিয়ম অনুযায়ী, একজন কর্মীর বেতনের ১২ শতাংশ নিজের পিএফ তহবিলে জমা হয়। অন্যদিকে, কোম্পানির প্রদত্ত ১২ শতাংশ অবদান দুটি ভাগে বিভক্ত থাকে। একটি অংশ যায় পেনশন স্কিমে (EPS) এবং বাকি অংশটি প্রভিডেন্ট ফান্ডে (EPF) জমা পড়ে।
পুরনো নিয়মে অর্থাৎ ১৫,০০০ টাকার সীমায় আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১৮০০ টাকা জমা করা হত, এবার তা বেড়ে ২০৮২ টাকা হতে পারে।
বর্তমানে প্রতি মাসে হাতে সামান্য কম টাকা এলেও, দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত কর্মীদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে বলেই জানানো হয়েছে।