
কলকাতা: গয়না বন্ধক রেখে অনেকেই গোল্ড লোন নেয়। কোনও কারণে সময়মতো ইএমআই দিতে না পারলে কি সঙ্গে সঙ্গে নিলাম হয়ে যাবে সাধের গয়না? এই প্রশ্ন অনেকের মাথাতেই ঘরে। ১টি কিস্তি বাকি পড়লেই সাধারণত ব্যাঙ্ক কর্মীরা আপনার গয়না নিলাম করে দেবে না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ইএমআই না দিলে বকেয়া টাকা ও অতিরিক্ত চার্জ বাড়তে পারে। এমনকি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে বন্ধক রাখা সোনা নিলামও করা হতে পারে। তাই কত দিন বকেয়া থাকলে ঝুঁকি বাড়ে ও নিলামের আগে কী কী সুযোগ থাকে, তা জেনে রাখা জরুরি।
কত ইএমআই বাকি থাকলে নিলাম হতে পারে গয়না?
গোল্ড লোনের ক্ষেত্রে ২,৩ বা ৬টি ইএমআই বাকি থাকলেই, এমন কোনও সর্বজনীন নিয়ম নেই। নিলামের বিষয়টি নির্ভর করে ঋণের চুক্তি, বকেয়া টাকা ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের উপর। সাধারণত কোনও ঋণের সুদ বা কিস্তি ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া থাকলেই ঋণটি অনুৎপাদক সম্পদ বা Non Performing Asset (NPA) হয়ে যায়। এরপর ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে যায় ও বন্ধক রাখা গয়না নিলামের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ধরা যাক, কোনও গ্রাহক জুন মাসে কোনও ইএমআই দিতে পারেনি, কিন্তু জুলাই ও অগস্টে কিস্তি জমা দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে জুনের বকেয়া কিস্তি না মিটলে সেটি বকেয়াই থাকতে পারে। তাই পুরনো ঋণ জমা দেওয়া আগে দরকার।
ইএমআই না দিলে ব্যাঙ্কের পদক্ষেপ-
প্রথম ১-৩০ দিন- ফোন কল, SMS বা অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহককে রিমাইন্ডার দেওয়া হয়। ঋণের শর্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত চার্জও লাগতে পারে।
৩০-৯০ দিন- বকেয়া পরিশোধের জন্য লিখিত স্মারক বা নোটিস পাঠানো হতে পারে। এই সময়ে ঋণের চুক্তি অনুযায়ী সুদ ও অন্য চার্জও অ্যাড হতে পারে।
৯০ দিন বা তারও বেশি – প্রযোজ্য শর্তপূরণ না হলে ঋণটি NPA হয়ে যেতে পারে। এরপর ঋণ আদায়ের পদক্ষেপ আরও কঠিন হতে পারে।
গয়না নিলামের আগে কি গ্রাহককে নোটিস দেওয়া হয়?
হ্যাঁ, গয়না নিলাম করার আগে ঋণদাতাকে যেমন নিয়ম ও চুক্তি মেনে নোটিস দিতে হয়, তেমনই গ্রাহককে বকেয়া টাকা পরিষদের সুযোগও দেওয়া হয় ও নিলামের বিষয়ে জানানো হয়। নিলাম থেকে পাওয়া টাকা নিয়ে প্রথমে ঋণ ও প্রযোজ্য খরচ মেটানো হয়। এরপর অতিরিক্ত টাকা থাকলে তা নিয়ম করে গ্রাহককে ফেরত দিতে হয়। আবার নিলামের অর্থ দিয়ে পুরো ঋণ শোধ না হলে বাকি টাকার দায় সম্পর্কেও ঋণের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তাই নিলামের নোটিস পেলে সেটিকে অবহেলা করা উচিৎ নয়।
নিলামের আগে কি গয়না ফেরত পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, নিলাম সম্পন্ন হওয়ার আগে ঋণ ও পেনাল্টি চার্জ মিটিয়ে গয়না ছাড়ানোর সুযোগ থাকে। তবে ঠিক কত টাকা দিতে হবে ও কীভাবে গয়না ফেরত পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট ঋণচুক্তি ও ঋণদাতার উপর নির্ভরশীল। নিলাম হয়ে গেলে পরিস্থিতি বদলে যায়। তাই যদি ইএমআই দিতে না পারেন, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব ঋণদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে মোট বকেয়া টাকা জেনে নিন। ঋণের চুক্তিপত্র দেখে পেনাল্টি, অতিরিক্ত চার্জ ও নিলামের শর্তগুলি দেখে নিন। কোনও নোটিশ পেলে তাতে উল্লেখ করা সময়সীমা মেনে পদক্ষেপ করুন। পুরো টাকা যদি একবারে দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে কিস্তি পরিষোধের কোনও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে কি না, দেখে নিন।