
নয়া দিল্লি: বিক্রি হয়ে যাচ্ছে আইডিবিআই ব্যাঙ্ক (IDBI Bank)। বিলগ্নীকরণে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে কানাডার সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফিন্যান্সিয়াল হোল্ডিং (Fairfax Financial Holdings)-র কাছে। ৫২ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকায় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তবে এই ঘোষণার পরই সাধারণ মানুষ থেকে ব্যাঙ্কের কর্মীদের মনে প্রশ্ন, ব্যাঙ্কে যাদের অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তাদের কী হবে? ব্যাঙ্কের কর্মীদের চাকরি কি অক্ষত থাকবে?
আইডিবিআই ব্য়াঙ্ক বিক্রি হয়ে গেলেও, বর্তমান কর্মীদের চাকরির শর্তে কোনও পরিবর্তন হবে না, এমনই আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স ফিন্যান্সিয়াল হোল্ডিংস-এর কাছে ব্যাঙ্কের ৬০ শতাংশের বেশি শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা ঘিরে কর্মীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই এই বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন নিয়েও কোনও চিন্তার কারণ নেই বলে জানানো হয়েছে।
বিনিয়োগ ও সরকারি সম্পদ পরিচালনা বিভাগের (DIPAM) সচিব অরুণীশ চাওলা শুক্রবার সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI)-কে জানিয়েছেন, আইডিবিআই ব্যাঙ্কের শেয়ার বিক্রির পরও বর্তমান কর্মীদের চাকরির শর্তে তাঁদের ক্ষতি হয়, এমনভাবে পরিবর্তন করা হবে না। শেয়ার কেনার চুক্তিতেই এই শর্ত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কেন্দ্রের এই আশ্বাস এমন সময়ে এসেছে, যখন ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন কর্মীরা। নভেম্বরের শুরুতে বিভিন্ন শাখায় ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নসও এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে।
আইডিবিআই ব্যাঙ্ক (IDBI Bank)-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন নিয়ে উদ্বেগের জবাবেও আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রের সচিব। তাঁর বক্তব্য, পেনশনের জন্য আলাদা তহবিল বা ফান্ড রাখা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বজায় রাখা হবে।
একই সঙ্গে অরুণীশ চাওলা স্পষ্ট করেছেন, আইডিবিআই ব্যাঙ্ক কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক নয়। এই ব্যাঙ্কের কর্মীদের চাকরির শর্ত নির্ধারণ করে ব্যাঙ্কের পরিচালন পর্ষদ। এ ক্ষেত্রে কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার এই শর্ত নির্ধারণ করে না।
তিনি জানান, ব্যাঙ্কের মালিকানা বদল হলেও, ব্যাঙ্কটি চলমান ব্যবসায়িক সংস্থা হিসেবেই কাজ করবে। ভবিষ্যতেও পরিচালন পর্ষদের মাধ্যমেই ব্যাঙ্কের কাজকর্ম পরিচালিত হবে। বর্তমানে যে কোম্পানি আইন ও শ্রম আইন মেনে ব্যাঙ্ক চলে, ভবিষ্যতেও সেই নিয়মই কার্যকর থাকবে।
মালিকানা বদল হলেও, আইডিবিআই ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের উপরে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে না বলেই জানানো হয়েছে। তাদের জমা টাকা, বিনিয়োগও অক্ষুণ্ণ থাকবে।
আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণের পরেও কেন্দ্রীয় সরকার এবং লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (LIC) ব্যাঙ্কের শেয়ারহোল্ডার হিসেবে থাকবে বলেই খবর। ডিআইপিএএম (DIPAM) সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্র ও এলআইসি প্রত্যেকেই নিজেদের শেয়ার ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। পাশাপাশি, ব্যাঙ্কের পরিচালন পর্ষদেও তাদের কোনও প্রতিনিধি থাকবেন না।
ব্যাঙ্কের পরিচালনা এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজন হলে তা জোগানোর দায়িত্ব থাকবে ক্রেতার উপর। অর্থাৎ, বিক্রির পরে ফেয়ারফ্যাক্স (Fairfax)-ই ব্যাঙ্ক পরিচালনার মূল দায়িত্ব নেবে।
এদিকে, বাজার নিয়ন্ত্রক সেবি (SEBI)-র নির্দেশ অনুযায়ী, আইডিবিআই ব্য়াঙ্কে এলআইসি-র শেয়ার বর্তমান ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করতে হবে। এর ফলে বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও ৪ শতাংশ শেয়ার উপলব্ধ থাকবে।
ফেয়ারফ্যাক্সের সঙ্গে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের চুক্তিটি সম্পন্ন হলে তা ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত হবে। একই সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে।
চলতি অর্থবর্ষের শেষের মধ্যে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে এর জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)-সহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির অনুমোদন প্রয়োজন। চুক্তি সম্পন্ন হলে ব্যাঙ্ক পরিচালনা এবং ভবিষ্যতের মূলধনের প্রয়োজন মেটানোর দায়িত্ব নেবে ফেয়ারফ্যাক্স।