
তেহরান: হরমুজ়ে ইরানের বন্দরগুলির কাছে মোতায়েন রয়েছে ১৫টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। ইরানের কোনও জাহাজ আসছে কি না, নজর রাখছে ২৪ ঘণ্টা। ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন, কোনও ইরানের জাহাজ এলেই তা অবিলম্বে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এই অবরোধের কারণে ইরানের প্রতিদিন প্রায় ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪০ হাজার কোটি) বাণিজ্যিক ক্ষতি হতে পারে। এমনই আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে ইরানের ওপর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
FDD-র সিনিয়র বিশেষজ্ঞ মিয়াদ মালেকি এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানে প্রতিদিন প্রায় ২৭৬ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যা ভারতীয় টাকায় ২৫ হাজার কোটির বেশি। এছাড়া আমদানি ক্ষতিগ্রস্থ হবে ১৫৯ মিলিয়ন ডলারের। যা ভারতীয় টাকায় প্রায় ১৪ হাজার কোটির বেশি।
ইরানের বার্ষিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি পারস্য উপসাগরের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হয়। রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ এবং দেশের জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে তেল ও গ্যাস থেকে। মালেকি বলেন, “ইরান সাধারণত দিনে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে। যা থেকে প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় হয়। যা ভারতীয় টাকায় প্রায় ১২ হাজার কোটির বেশি। কিন্তু, হরমুজ় অবরোধের কারণে তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ৯২ শতাংশ অপরিশোধিত তেল যেখান থেকে আসে সেই খার্গ দ্বীপটি প্রভাবিত এলাকার মধ্যে পড়ে বলে জানা গিয়েছে।
আমেরিকার হরমুজ় অবরোধ পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির উপরও প্রভাব ফেলবে। ইরানের দৈনিক প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ এই পণ্যগুলো অবরোধ এলাকায় অবস্থিত বন্দরগুলোর মাধ্যমে পাঠানো হয়। এই বন্দরগুলোর মধ্যে আসালুয়েহ এবং ইমাম খোমেনি বন্দর অন্তর্ভুক্ত।
একটা বিষয় স্পষ্ট, আমেরিকার হরমুজ় অবরোধের কারণে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে ইরান। কিন্তু তারপরেও মাথা নোয়াতে রাজি নয় ইরান। কিন্তু ট্রাম্পের হুমকি উত্তরোত্তর বাড়ছে। এই অবস্থায় ইরানের পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল। এদিকে শোনা যাচ্ছে, দ্বিতীয়বার বৈঠকে বসতে পারে ইরান ও আমেরিকা। তবে, এবার বৈঠক স্থল ইসলামাবাদ নয় বলেই জানা গিয়েছে।