
সোমবার সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে রক্তাক্ত হয়েছিল ভারতের শেয়ার বাজার। মাত্র কয়েক ঘণ্টার লেনদেনে সাড়ে ৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি। সেই ধাক্কা মঙ্গলবারও কাটিয়ে উঠতে পারেনি না বাজার। মঙ্গলবার ২৪২ পয়েন্ট পড়ে সেনসেক্স। সোম এবং মঙ্গলবার, ভারতের বাজার থেকে আড়াই লক্ষ কোটি টাকারও বেশি তুলে নিয়েছেন মূলত বিদেশি লগ্নিকারীরা। সেই টাকা ঢুকল মার্কিন বন্ডের বাজারে। কারণ গত সপ্তাহে মার্কিন বন্ডে সুদের হার বাড়িয়েছে সেদেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক। ১০ বছরের মেয়াদি আমানতে সুদ অনেকটা বাড়ায় লগ্নিকারীরা টাকা তুলে ওখানেই ঢালছেন।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমারও লক্ষণ নেই। ফলে, বাজার থেকে তেলেও টাকা ঢুকছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরপর এতগুলো ধাক্কা আসাতেই শেয়ার বাজারের এই অবস্থা। যাঁরা শেয়ার বাজারের খোঁজখবর রাখেন, তাঁদের কাছে এগুলো নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে ভারতের শেয়ার বাজারে ধাক্কা আসে। এবং বাজার সেই ধাক্কা সামলেও নেয়। এটাই এত বছর ধরে চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে একটা করে ধাক্কা আসবে, আর ভারতের শেয়ার বাজার গড়াগড়ি খাবে, এটা তো চলতে পারে না। হয়তো আর বেশিদিন চলবেও না।
শেয়ার বাজারে পতন সামলাতে বড় পদক্ষেপ করছে ভারত-
মার্কিন বন্ড ইয়েল্ডের ধাঁচে ইন্ডিয়া বন্ড ইয়েল্ড বাজারে আনছে ভারত। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের প্রথম দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী বন্ড। এই বন্ড বাজারে এসে বিদেশ থেকে মূলধন তুলবে ভারত। আন্তর্জাতিক ইস্যুতে শেয়ার বাজারে ধাক্কা এলে বা অর্থনীতির গতি কমলে ভারতের হাতিয়ার হবে ভারতের নিজস্ব এই বন্ড। এই বন্ডকে কাজে লাগিয়ে ভারত শেয়ার বাজারের পতন বা ধাক্কা সামলাতে পারবে। ঠিক আরবিআই নিজেদের ভাঁড়ারে থাকা ডলার বা সোনাকে কাজে লাগিয়ে যে কাজ করে, শেয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ঠিক সেটাই করবে।
দুনিয়ার নবম দেশ হিসাবে ইন্টারন্যাশনাল ইয়েল্ড বন্ড লঞ্চ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। প্রশ্ন উঠতে পারে, মার্কিন বন্ডের মতো ইন্ডিয়া ইয়েল্ড বন্ডও যে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা পাবে, সেটা কী করে বলা যায়? একদম ঠিকঠাক প্রশ্ন। কোন বন্ডের গ্রহণযোগ্যতা কতটা সেটা বলে দেয় তার রেটিং। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সূত্রে খবর, বি বি প্লাস রেটিং নিয়ে ইনিংস শুরু করবে ভারতের নিজস্ব ইয়েল্ড বন্ড। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি বি বি প্লাস রেটিংয়ের জন্যই আবেদন করেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রেটিং পেলে বন্ডের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় থাকবে না। তবে সেই রেটিং না মিললে কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা আসতে পারে। সবমিলিয়ে ঝুঁকি নিয়েই ইয়েল্ড বন্ডের বাজারে ঝাঁপাতে চলেছে ভারত।