
নয়া দিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা, ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দাম বেড়েছে তেলের, শেয়ার বাজারেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই সঙ্কট বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এই অস্থিরতার প্রভাব দেখা গিয়েছে কোটিপতিদের সম্পদের উপর, যেখানে কারও কারও মোট সম্পদ দ্রুত বেড়েছে, আবার কেউ কেউ ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ, ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের শীর্ষ শিল্পপতিদের মোট সম্পদ কত বাড়ল-কমল, তার হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি: ৮১.৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭.৫২ লক্ষ কোটি টাকা)।
১৭ এপ্রিল: ৯২.৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮.৫২ লক্ষ কোটি টাকা)।
অর্থাৎ যুদ্ধ চলাকালীনও আদানির সম্পদে বিশেষ কোনও প্রভাব পড়েনি, উল্টে ১০.৯ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। প্রায় দেড় মাসের মধ্যে গৌতম আদানির মোট সম্পদ প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বেড়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি: ৩৩.২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩.০৫ লক্ষ কোটি টাকা)।
১৭ এপ্রিল: ৩৩.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩.০৮ লক্ষ কোটি টাকা)।
শিব নাদারের মোট সম্পদে সামান্য বৃদ্ধি ঘটেছে। ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটির বৃদ্ধি হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি: ৯৪.২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮.৬৭ লক্ষ কোটি টাকা)।
১৭ এপ্রিল: ৯০.৮ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা)।
যুদ্ধ চলাকালীন মুকেশ অম্বানীর মোট সম্পদ ৩.৪ বিলিয়ন ডলার কমে গিয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি: ৩৯ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা)।
১৭ এপ্রিল: ৩৬.৯ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩.৩৯ লক্ষ কোটি টাকা)।
শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তালও এই কয়েক মাসে ২.১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি: ৩২.৯ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩.০৩ লক্ষ কোটি টাকা)।
১৭ এপ্রিল: ৩২.৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩.০১ লক্ষ কোটি টাকা)।
সাবিত্রী জিন্দালের মোট সম্পদ ২০০ মিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে।
এই ওঠানামার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:
তেলের দাম বৃদ্ধি – পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, যার জেরে জ্বালানি খাতে অস্থিরতা ও সঙ্কট তৈরি হয়েছে।
শেয়ার বাজারের অস্থিরতা – বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে চাইছেন না, ফলে বিভিন্ন খাতের শেয়ারগুলি চাপের মুখে পড়েছে, শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে।