
নয়া দিল্লি: ট্রেনের টিকিট বুকিং (Train Ticket Booking) নিয়ে ভুরি ভুরি জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের। এর মধ্যে তৎকাল বুকিং (Tatkal Booking) নিয়ে তো বিস্তর অভিযোগ। সাধারণ যাত্রীরা অনেক সময়ই ট্রেনের টিকিট পান না। এবার সামনে এল রেলের টিকিটে আরও বড় এক জালিয়াতি। কীভাবে পর্দাফাঁস হল, জেনে নিন-
সম্প্রতিই সেন্ট্রাল রেলওয়ের (Central Railways) নজরে আসে যে ফরেন ট্যুরিস্ট কোটা (Foreign Tourist Quota)-তে প্রচুর বুকিং হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হয়, সত্যিই কি এত বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করছেন? যা দেখা গেল, তাতে চক্ষু চড়কগাছ। জানা গেল, স্পেশাল কোটা ব্যবহার করে ভারতীয় যাত্রীরাই ভ্রমণ করছেন। তাও প্রয়োজনীয় নথি না দিয়েই। শুধুমাত্র কনফার্ম টিকিট পাওয়ার জন্য।
এই গোটা বিষয়টিই সামনে আসে গত ৪ মে। বেঙ্গালুরু থেকে বিহারের দানাপুরগামী সঙ্ঘমিত্রা এক্সপ্রেসে দেখা যায় বেশ কিছু ভারতীয় যাত্রী ফরেন ট্যুরিস্ট কোটায় টিকিট রিজার্ভ করে ভ্রমণ করছেন। তাদের কাছে বিদেশি নাগরিক হওয়ার নথি দেখতে চাইলে, তারা দেখাতে পারেননি। এরপরই গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
গত ২৪ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত যত বুকিং হয়েছে, সেগুলি সব খতিয়ে দেখা হয়। তাতেই ধরা পড়ে যে ৩১টি ট্রেনে ১৭৪টি পিএনআর ব্যবহার করে বিদেশি কোটায় টিকিট কাটা হয়েছে। ১২১ জন যাত্রীকে বেআইনিভাবে অন্য কোটায় ভ্রমণ করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা হয়। এই যাত্রীদের কাছ থেকে মোট ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ৯১৬ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ওই যাত্রীদের ওই রিজার্ভ সিট ব্যবহার করতেও দেওয়া হয়নি। বর্তমানে কারা এই বেআইনি বুকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত, তাদের খোঁজা হচ্ছে।
সেন্ট্রাল রেলওয়ের তরফে যাত্রীদের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, একমাত্র বৈধ হলে তবেই এই ধরনের কোনও কোটায় টিকিট কাটতে। যদি কেউ বেআইনিভাবে ট্রেনের কোনও কোটা ব্যবহার করত ধরা হয়, তাহলে রেলওয়ে আইনের অধীনে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হবে। সন্দেহজনক যাত্রী দেখলে ১৩৯ হেল্পলাইন বা রেল মদদ (Rail Madad) অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।