
নয়া দিল্লি :দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড ব্যবহার করেন বিনিয়োগকারীরা। এবার সেইসব বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর। পিপিএফ-এ বাড়তি আয়ের সুযোগ থাকছে তাঁদের জন্য। তার জন্য মানতে হবে কিছু নিয়ম। মাসে ৫ তারিখের আগে আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে। সেরকমই পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাহলেই বাড়তি টাকা ঢুকবে আপনার অ্যাকাউন্টে। অর্থাৎ রিটার্ন বেশি পাবেন। কিন্তু ৫ এপ্রিলের পর যদি বিনিয়োগ করেন, তাহলে অনেকটাই কম রিটার্ন পাবেন বিনিয়োগকারীরা।
পিপিএফ একটি সরকারের সঞ্চয় প্রকল্প, যেখানে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য রিটার্ন ও কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়। বর্তমানে এপ্রিল–জুন ২০২৬ ত্রৈমাসিকের জন্য এই স্কিমে সুদের হার ৭.১%। স্কিমের মেয়াদ ১৫ বছর। যা পরবর্তীতে ৫ বছর করে বাড়ানো যায়।
কীভাবে সুদ হিসেব করা হয়?
অনেক বিনিয়োগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম এড়িয়ে যান। অনেকেই পিপিএফ অ্যাকাউন্টের সুদ গণনার বিষয়টা জানেন না। প্রতি মাসের ৫ তারিখ থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সর্বনিম্ন ব্যালেন্সের উপর ভিত্তি করে সুদ গণনা করা হয়। সেই কারণে টাকা জমা দেওয়ার তারিখ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি ১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে বিনিয়োগ করেন, তবে আপনি এপ্রিল থেকেই সুদ পেতে শুরু করবেন। কিন্তু আপনি যদি ৫ এপ্রিলের পরে টাকা জমা দেন, তবে সুদ গোনা হবে মে মাস থেকে। অর্থাৎ এক মাসের সুদ কম পাবেন। তাতে রিটার্নও কম আসবে।
এক্ষেত্রে একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ধরুন ৫ই এপ্রিলের আগে আপনি দেড় লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলেন। তাহলে আপনি পুরো ৭.১ শতাংশ হারে ১২ মাসের সুদ পাবেন। এক বছরে সুদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার ৬৫০ টাকা। যদি একই পরিমাণ টাকা ৬ই এপ্রিল জমা করা হয়,তবে সুদ গণনা হয় মাত্র ১১ মাসের জন্য। এতে আয় কমে দাঁড়ায় প্রায় ৯,৭৬৩ টাকা। পার্থক্য প্রায় ৮৮৭ টাকা।
১৫ বছর পর এই বিনিয়োগের সুবিধা আরও বেশি স্পষ্ট হবে। আর্থিক বছরের শুরুতে ১.৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে, আপনার মোট বিনিয়োগ হবে ২২ লক্ষের বেশি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বেড়ে প্রায় ৪০ লক্ষ ৬৮ হাজার হবে। এর মধ্যে সুদ থেকেই আসে প্রায় ১৮ লক্ষের বেশি। কিন্তু আপনি যদি ৬ তারিখের পর বিনিয়োগ করেন, তাহলে তা রিটার্নের ক্ষেত্রে ৪০ লাখ থেকে কমে ৩৭ লাখ হবে। সহজ কথায়,সামান্য দেরির কারণে আপনার প্রায় ২.৯ লক্ষ টাকা ক্ষতি হতে পারে।