
মুম্বই: বিদেশে চাকরি করতে ইচ্ছুক যুবকদের জন্য নতুন উদ্যোগ নিল ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (NSDC)। এবার ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) সোশ্যাল স্টক এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্মে আত্মপ্রকাশ করল এই সংস্থা। এর মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য অর্থ সংগ্রহের নতুন পথ খুলল। গত ২২ অক্টোবর মুম্বইয়ে বিশেষ উদ্যোগের সূচনা করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী। NSDC-র প্রথম জিরো কুপন জিরো প্রিন্সিপাল (ZCZP) ইস্যুর করে NABARD-র কাছ থেকে ৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ৪ কোটির এই অর্থ ১১.২৫ কোটি টাকার একটি কর্মসূচির অংশ। এর আওতায় মধ্যপ্রদেশের আর্থিকভাবে দুর্বল অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC)-র পরিবারের ৬০০ জন যুবক-যুবতীকে জাপান ও জার্মানিতে চাকরির জন্য প্রস্তুত করা হবে। ভাষা শিক্ষা, কাজের উপযোগী প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে তাঁদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। বিদেশে সফলভাবে চাকরি পাওয়ার সঙ্গে রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তার একটি অংশ যুক্ত থাকবে।
এই কর্মসূচিতে মোট ৬০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাঁদের মধ্যে ৩০০ জনকে জাপানে এবং বাকি ৩০০ জনকে জার্মানিতে চাকরির জন্য প্রস্তুত করা হবে। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখানোর পাশাপাশি বিদেশে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতার উপরেও জোর দেওয়া হবে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আবাসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে এনএসডিসি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। কেয়ারগিভিং বা পরিচর্যা পরিষেবা, হসপিটালিটি, নির্মাণ এবং উৎপাদন শিল্পের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে খবর, প্রশিক্ষণ শেষে বিদেশে চাকরি পেলে জাপানে মাসে আনুমানিক ১ লক্ষ থেকে ১.২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে। অন্যদিকে, জার্মানিতে সম্ভাব্য মাসিক আয় ১.১ লক্ষ থেকে ৩.২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কাজ, নিয়োগের শর্ত এবং ব্যক্তিগত কর্মসংস্থানের ফলাফলের উপর প্রকৃত বেতন নির্ভর করবে। এই আয় সম্ভাব্য হিসাব মাত্র, নিশ্চিত বেতনের প্রতিশ্রুতি নয়।
এই কর্মসূচির জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হবে তিনটি উৎস থেকে। প্রশিক্ষণপ্রার্থীদের নিজস্ব অবদান, সোশ্যাল স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ এবং মধ্যপ্রদেশ সরকারের সহায়তা।
রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তার একটি অংশ বিদেশে সফলভাবে চাকরি পাওয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। পাশাপাশি, প্রশিক্ষণপ্রার্থীদের বাছাই ও একত্রিত করা, আবাসিক প্রশিক্ষণের পরিকাঠামো তৈরি এবং ভাষা শিক্ষার ল্যাবরেটরি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে রাজ্য সরকার।
এই উদ্যোগে ব্যবহার করা হয়েছে জিরো কুপন জিরো প্রিন্সিপাল (ZCZP) পদ্ধতি। এর মাধ্যমে যোগ্য সংস্থাগুলি প্রচলিত ঋণের মতো সুদ দেওয়া বা মূলধন ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।
মুম্বইয়ে NSE-র অনুষ্ঠানে জয়ন্ত চৌধুরী বলেন, “ভারতের উন্নতির সঙ্গে দেশের মানুষের উপর বিনিয়োগও বাড়াতে হবে।” তিনি আরও জানান, সরকার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। কিন্তু বৃহৎ পরিসরে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি অর্থদাতা এবং অনুদানদাতাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
NSDC-র সিইও অরুণকুমার পিল্লাইয়ের বক্তব্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন এবং বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণকে একই মঞ্চে আনা হবে। এবার বাস্তবায়নের পথে এগোবে এই কর্মসূচি। কতজন প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করতে পারেন এবং শেষ পর্যন্ত বিদেশে চাকরি পান, তার উপরেই উদ্যোগের সাফল্য অনেকটা নির্ভর করবে।