
নয়া দিল্লি: বাজেটের পরই বড় চমক দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আনা হয়েছে নতুন আয়কর বিল। নতুন বিল আনার সময়ই কেন্দ্র জানিয়েছিল, এই বিলের উদ্দেশ্য় হল আয়কর আইনের আরও সরলীকরণ। তবে এই আয়কর বিল নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। দাবি, এই বিলে নাকি আয়কর বিভাগকে যেকোনও ব্যক্তির ইমেইল, ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নজরদারি করতে পারবে।
সংসদে নতুন আয়কর বিল পেশ হয়েছে। সিলেক্ট কমিটি এই বিলের পর্যালোচনা করবে, তারপরই সম্মতি মিললে আয়কর আইনে পরিণত হতে পারে এই বিল। তবে এই বিল নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হল এতে ভার্চুয়াল ডিজিটাল স্পেসে আয়কর বিভাগের নজরদারির অধিকার দেওয়া হচ্ছে। সহজ কথায় বলতে গেলে, আইনে পরিণত হলে, আয়কর আধিকারিকরা চাইলে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ইমেইল, ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নজরদারি করতে পারবে।
বর্তমানে আয়কর আধিকারিকরা তদন্তের খাতিরে ল্য়াপটপ, হার্ড ড্রাইভ, ইমেইলের অ্যাক্সেস চাইতে পারে। তবে ডিজিটাল রেকর্ডের মধ্য়ে কী কী রয়েছে, তার স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না। নতুন আয়কর বিলের ২৪৭ ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে আয়কর আধিকারিকরা ডিজিটাল সম্পত্তির অ্যাক্সেস নিতে পারে। যদি কেউ পাসওয়ার্ড দিতে অস্বীকার করে, তবে সিকিউরিটি সেটিং ভেঙেও ফাইল আনলক করতে পারে।
আয়কর আধিকারিকদের যদি সন্দেহ হয় যে কেউ কর ফাঁকি দিচ্ছেন বা হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তি থাকে, তবে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে আধিকারিকরা ওই ব্য়ক্তির ইমেইল, সোশ্য়াল মিডিয়া, ব্যাঙ্ক ডিটেইল, ইনভেস্টমেন্ট অ্যাকাউন্ট চাইলেই অ্য়াক্সেস করতে পারবে।
এই নিয়ম সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে সঠিকভাবে আইনের কাঠামো তৈরি না হলে, এই ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহার হতে পারে।