
নয়া দিল্লি: ইরান-আমেরিকার সংঘাত থামার নাম নেই। এদিকে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী! ভারতের তেল ও জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানি করা হয়। এত বড় দেশ, এই বিপুল জ্বালানির চাহিদা তাহলে মিটছে কোথা থেকে?
জানলে অবাক হবেন যে ইরান বা আমেরিকা নয়, ভারতে অপরিশোধিত তেল আসছে ছোট্ট একটা দেশ থেকে। ভেনেজুয়েলা। চলতি মে মাসে ভেনেজুয়েলা ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল অর্থাৎ ক্রুড তেলের সরবরাহকারী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে।
বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে অস্থিরতার মধ্যে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি সস্তায় ভেনেজুয়েলার ক্রুড তেল কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সৌদি আরব এবং আমেরিকার মতো শীর্ষস্থানে থাকা দেশগুলিকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে।
জ্বালানি পণ্য ট্র্যাকার ‘কেপলার’ (Kpler)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলা চলতি মাসের এই সময় পর্যন্ত ভারতকে প্রতিদিন প্রায় ৪,১৭,০০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করেছে, যা এপ্রিল মাসের ২,৮৩,০০০ ব্যারেলের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এর আগের টানা নয় মাস এই দক্ষিণ আমেরিকান দেশটি ভারতকে কোনও অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করেনি।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে ভারত যখন তাদের অপরিশোধিত তেল আমদানির উৎস কৌশল পরিবর্তন করার পরিকল্পনা করছে, ঠিক সেই সময় বড়সড় উত্থান হল ভেনেজুয়েলার।
চলতি মে মাসে কেবল রাশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ভারতে ভেনেজুয়েলার চেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল ভারতে সরবরাহ করেছে।
আমদানি বাড়ার পিছনে মূল কারণ হল তেলের দাম। ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য অনেক গ্রেডের তেলের চেয়ে সস্তা। ফলে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলির কাছে ভেনেজুয়েলা নিরাপদ অপশন হয়ে উঠেছে।
দ্য ইকোনমিক টাইমস (ET)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় তেল শোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলি, বিশেষ করে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এর অন্যতম বড় ক্রেতা। কারণ ভেনেজুয়েলার ভারী ও উচ্চ সালফারযুক্ত অপরিশোধিত তেল গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত রিলায়েন্সের উন্নত শোধনাগার কাঠামোর জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বেশিরভাগ ভারতীয় শোধনাগার ভেনেজুয়েলার তেল কেবল সীমিত পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত করতে পারলেও, রিলায়েন্সের উন্নত শোধন পরিকাঠামো তাদের এই তেলের অন্যতম আমদানিকারক করে তুলেছে।
ভারতের তেল আমদানি বাড়লেও তা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্তরের নিচেই রয়েছে। কেপলার-এর তথ্য অনুসারে, মে মাসে ভারতের সামগ্রিক অপরিশোধিত তেল আমদানি আগের মাসের তুলনায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে, প্রতিদিন প্রায় ৪.৯ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে। তবে এই আমদানির পরিমাণ ফেব্রুয়ারি মাসের দৈনিক ৫.২ মিলিয়ন ব্যারেলের নিচেই রয়েছে। এরপরই ইরান যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করেছিল।
চলতি বছরের শুরুর দিকে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলি থেকে তেল আমদানি ও পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও চলতি মাসে ইরাকের কিছু তেলের কার্গো পুনরায় চলাচল শুরু করেছে, তবে এর পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক কম।