
নয়া দিল্লি: আগেই আশঙ্কা করা হয়েছিল। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে বিশ্ব জুড়ে তেল ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। ভারতও সেই প্রভাব থেকে রক্ষা পায়নি। জল্পনা অনেকদিন ধরেই হচ্ছিল, সেই জল্পনাই সত্যি হল আজ। দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়াল (Petrol-Diesel Price Hike)। লিটার প্রতি ৩ টাকা করে বেড়েছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম। কমপ্রেসড ন্যাচরাল গ্যাস বা সিএনজি(CNG)-র দামও প্রতি কেজিতে ২ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এতটুকু মূল্যবৃদ্ধিতেই কি ঘাটতি পূরণ হবে?
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় ভারতেও জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এখনও দেশে প্রায় দুই মাসের তেলের রিজার্ভ থাকলেও, ভবিষ্যতের সরবরাহের যোগান নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। আর এর পুরো প্রভাবটাই এসে পড়ছে দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির উপরে। দৈনিক ১৬০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকেই ১.২ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।
লিটার প্রতি পেট্রোল-ডিজেলের দাম তিন টাকা বৃদ্ধি সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য অনেকটাই বেশি, তবে অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি প্রতিদিন যে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে, তা পূরণ করতে তিন টাকা মূল্যবৃদ্ধি যথেষ্ট নয় বলেই মত এক্সপার্টদের। যদি ইরান-আমেরিকার সংঘাত চলতে থাকে, তাহলে আরও মূল্যবৃদ্ধি করতে হবে অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির ক্ষতি পূরণ করতে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির সঙ্গে ভারসাম্য আনতে।
যুদ্ধ শুরুর আগে ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারের কাছাকাছি ছিল ক্রুড তেলের দাম। যুদ্ধ শুরুর পর তা এখন ১১০ ডলারে পৌছেছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পেট্রোল ও ডিজেলে লিটার প্রতি ২৮ থেকে ৩৩ টাকা বৃদ্ধি হয়, তাহলে অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি তাদের কস্ট-রেভেনিউ পার্থক্যের ৩০ থেকে ৩৬.৫ শতাংশ পূরণ হবে।
তবে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে, কখনওই এতটা মূল্যবৃদ্ধি করা হবে না। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিকল্প পথ বলেছেন। গাড়ির ব্যবহার কমানো থেকে শুরু করে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করা, আগামী এক বছর সোনার কিছু না কেনা, বিদেশ ভ্রমণ ও ডেস্টিনেশন ওয়েডিং বাতিল করার অনুরোধ করেছেন তিনি। নিজের কনভয়ের সংখ্যাও কমিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এবার কেন্দ্রীয় সরকার অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলিকে সুরক্ষা দিতে জ্বালানির দাম আরও বাড়ায় নাকি মধ্যবিত্তের কথা ভেবে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখে, তাই-ই দেখার।