
নয়া দিল্লি: অবশেষে হাফ ছেড়ে বাঁচা গেল! ইরান-আমেরিকা সংঘর্ষবিরতি (Iran-US Ceasefire) ঘোষণা হতেই বিশ্ব বাজারে সস্তা হল তেলের দাম। ৪০ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছিল। তবে আজ, বুধবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতেই তেলের দামে প্রায় এক ধাক্কায় ১৫ শতাংশ পতন হল। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের (Brent Crude Oil) দাম ১০০ ডলারের নীচে নেমেছে।
আজ সকালেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের উপরে হামলা করা হবে না বলে ঘোষণা করেন। ইরানও সংঘর্ষবিরতির কথা স্বীকার করে। আর তারপরই ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলারে নেমে এসেছে। যুদ্ধ চলাকালীন এই অপরিশোধিত তেলের দামই প্রতি ব্যারেল পিছু ১০৯.৭৭ ডলারে নেমে এসেছে। ইউএস টেক্সা ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুড তেলের দামও ব্যারেল প্রতি প্রায় ২০ ডলার করে কমেছে।
তেলের দামে এই পতন সরাসরি ইরান-আমেরিকা সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীর সঙ্গে সম্পর্কিত। যুদ্ধ শুরুর পরই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল। বিশ্বের তেল ও জ্বালানির চাহিদার এক পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালীর মধ্যে দিয়ে সরবরাহ হয়।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হতেই তেলের দাম চড়চড়িয়ে বাড়তে থাকে। ভারত সহ গোটা বিশ্বই তীব্র তেলের সঙ্কটের মুখে পড়ে। সরবরাহ সঙ্কটের ভয়ে মার্চ মাসেই তেলের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম খুব একটা না বাড়লেও, অন্যান্য অনেক দেশেই জ্বালানির দাম বেড়েছে। তবে এবার সংঘর্ষবিরতি হতে আবার অপরিশোধিত তেলের দাম কমছে। দেশেও জ্বালানির সঙ্কট অনেকটাই মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে। তেলের দাম স্থিতিশীল হতে পারে। তেলের দাম বিশেষ একটা না কমলেও, নতুন করে দাম বাড়ার সম্ভাবনাও নেই।