
মানুষ উপার্জন করে খরচ করার জন্যই। তবে সেই খরচ যেন সঠিক জায়গায়, সঠিক পথে হয়, সেটাই আসল উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিটা মানুষ, যাঁরা উপার্জন করেন, তাঁদের বেশ কিছু অর্থনৈতিক সুরক্ষা থাকা সবচেয়ে আগে প্রয়োজন। তারপর তাঁদের অন্য খরচ করা উচিৎ। আর এই অর্থনৈতিক সুরক্ষার মধ্যে থাকতে হবে ওই ব্যক্তির টার্ম ইন্সিওরেন্স ও তাঁর উপর পরিবারের যাঁদের দায়িত্ব রয়েছে তাঁদের সকলের মেডিক্লেম। ফলে মানুষের উপার্জনের একটা বড় অর্থ এই দু প্রকার বিমায় খরচ হওয়ার কথা। কিন্তু PwC ও Perfoes-এর একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে সম্পূর্ণ অন্য তথ্য।
এই সমীক্ষায় দেশের মহানগর থেকে দেশের তৃতীয় টায়ারের শহরের মোট ৩০ লক্ষ মানুষ কীভাবে কোথায় কত টাকা খরচ করেন তা দেখা হয়েছে। যে সব মানুষে মাসিক বেতন ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকার মধ্যে, তাদের এই সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
PwC ও Perfoes-এর রিপোর্ট বলছে, এই রেঞ্জের মধ্যে যাঁরা উপরের দিকে বা মাঝামাঝি রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ আয়ের অনেকটা অংশই ঋণের ইএমআই পরিশোধে ব্যয় করেন। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ির জন্য ঋণ, গাড়ির জন্য ঋণ বা পার্সোনাল লোন।
এই সমীক্ষায় আবার খরচকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই ৩টি ভাগ হল, বাধ্যতামূলক খরচ, প্রয়োজনীয়তা ও বিবেচনামূলক খরচ। বাধ্যতামূলক খরচ অর্থাৎ, যে খরচ মানুষকে প্রতি মাসেই করতে হয়। এর মধ্যে থাকে মেডিক্লেমের প্রিমিয়াম, টার্ম ইন্সিওরেন্সের প্রিমিয়াম। লোনের ইএমআই সহ বিভিন্ন খরচ যা মানুষকে করতেই হয়। এর পর আসে প্রয়োজনীয়তা। অর্থাৎ যে যে খবর মানুষকে প্রয়োজনে করতে হয়। যেমন, খাওয়াদাওয়ার খরচ, ঘর ভাড়া ইত্যাদি। আর বিবেচনামূলক খরচ অর্থাৎ, যে খরচ না করলেও হয়।
রিপোর্ট বলছে, যে সব মানুষের বেতন তুলনামূলক ভাবে কম, তাঁদের আয়ের বেশিরভাগ অংশই ব্যায় করে মৌলক চাহিদা পূরণে ও ঋণ মেটাতে। অন্যদিকে, উচ্চ বেতনভোগীদের একটা বড় অংশের আয় চলে যায় বাধ্যতামূলক খরচ ও বিবেচনামূলক খরচের পিছনে। তাঁদের খরচের এই ধরণ দেখে এটা বোঝা যায় যে তাঁদের মধ্যে অনেকেরই বিরাট বিরাট ঋণ রয়েছে। এ ছাড়াও তাঁদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা তাঁদের ব্যয় আরও বাড়িয়ে তোলে। আরও দেখা গিয়েছে, কম আয়ের মানুষ অনলাইন গেমিংয়ের জন্য তাদের আয়ের ২২ শতাংশ ব্যয় করে।