
নয়া দিল্লি: ১০ ও ২০ টাকার প্লাস্টিকের নোট নিয়ে এল বড় আপডেট। প্লাস্টিক নোট চালুর বিষয়ে এবার আরও এক ধাপ এগোতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। আগামী বছর থেকেই প্লাস্টিক নোট চালু হতে পারে। একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে এই নোটের পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হতে পারে। বিশেষত্ব হল, নতুন প্লাস্টিকের নোটের আকার বর্তমান কাগজের নোটের মতোই রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে এটিএম মেশিনে কোনও পরিবর্তন করতে হবে না। ভবিষ্যতে এই নোট এটিএম-এ রাখার সিদ্ধান্ত হলেও ব্যাঙ্কগুলিকে নতুন করে বিপুল টাকা খরচ করতে হবে না।
মানিকন্ট্রোলের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ATM-এর খরচ কমাতেই নোটের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ আগের মতো রাখার পরিকল্পনা করছে RBI। নোটের মাপ বদলে গেলে ATM-এর ভিতরে নোট রাখার জায়গা, সেন্সর এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় পরিবর্তন করতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়রদের সাহায্যে মেশিনগুলি নতুন করে সেট করতে হবে।
একটি সরকারি ব্যাঙ্কের উচ্চপদস্থ আধিকারিকের দাবি, নোটের মাপ আগের মতো রাখা হলে ব্যাঙ্কগুলির প্রাথমিক খরচ অনেকটাই কমবে। এর আগে ১০০ ও ২০০ টাকার নতুন নোট চালুর সময় দেশজুড়ে প্রায় ২.৪ লক্ষ ATM মেশিনে পরিবর্তন করতে হয়েছিল। এই কাজে ATM শিল্পের খরচ হয়েছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
এক আধিকারিকের হিসাব অনুযায়ী, কোনও ব্যাঙ্কের ৮,৫০০টি ATM থাকলে নোটের মাপ অপরিবর্তিত রাখার ফলে প্রায় ২১.২৫ কোটি টাকা প্রাথমিক খরচ বাঁচতে পারে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্লাস্টিকের নোট ব্যাঙ্কের শাখার কাউন্টার থেকেও দেওয়া হতে পারে। এর ফলে আপাতত ATM মেশিনে পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়বে না।
RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা গত অগস্টে জানিয়েছিলেন, সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় প্লাস্টিকের নোট ২ থেকে ৪ গুণ বেশি দিন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে দেশজুড়ে চালুর আগে ভারতের আবহাওয়া এবং ব্যবহারের পরিস্থিতিতে এই নোটের স্থায়িত্ব পরীক্ষা করা হবে। ১০ ও ২০ টাকার এক-একশো কোটি প্লাস্টিকের নোটের ফিল্ড ট্রায়ালের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশে ইতিমধ্যেই প্লাস্টিকের নোট ব্যবহার করা হয়।