
নয়া দিল্লি: মধ্যবিত্তের জন্য সুখবর। বাড়ছে না ঋণের বোঝা। ফের অপরিবর্তিত রইল রেপো রেট (Repo Rate)। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার মনিটরি পলিসি কমিটি ফের একবার রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখল। আরবিআই-র গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এই ঘোষণা করেছেন। রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকায় চিন্তা কমল মধ্যবিত্তের, কারণ ইএমআই ও ব্যাঙ্কে সুদের হার বৃদ্ধি পাবে না।
প্রতি ত্রৈমাসিকেই বৈঠকে বসে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আর্থিক নীতি কমিটি বা মনিটারি পলিসি কমিটি (Monetary Policy Committee)। দেশের আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা করে এই কমিটির সদস্যরা রেপো রেট বাড়ানো বা কমানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। এবারের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল কারণ নতুন অর্থবর্ষের শুরুতে এটাই প্রথম বৈঠক ছিল। পাশাপাশি ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিতে যে টালমাটাল অবস্থা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই দেশের আর্থিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় আরবিআই।
জানা গিয়েছে, দুই দিন ধরে বৈঠক চলার পর রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটারি পলিসি কমিটির ছয় সদস্যের সর্বসম্মতিতে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমেরিকা-ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই আরবিআই রেপো রেট অপরিবর্তি রাখার ঘোষণা করল। এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরই বৈশ্বিক বাজারে উন্নতি হয়েছে। ভারতের শেয়ার বাজারেও বেশ ভাল উত্থান হয়েছে।
এর আগে গত বছরের অগস্ট ও অক্টোবর মাসে এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখেছিল রিজার্ভ ব্য়াঙ্ক।
প্রসঙ্গত, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যে হারে অন্যান্য ব্যাঙ্ক-কে ঋণ দেয়, সেটিকে রেপো রেট বলা হয়। একইভাবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যে সুদের হারে অন্য ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেয়, তাকে রিভার্স রেপো রেট বলে।
রেপো রেট বৃদ্ধি পেলে সরাসরি প্রভাব পড়ে ঋণের উপরে। ব্যাঙ্কগুলি ঋণে সুদের হার বৃদ্ধি করে। এর জেরে ইএমআই-ও বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে রেপো রেট কমলে, ঋণের ইএমআই-ও কমে যায়। মূলত গৃহ ঋণ, গাড়ির ঋণের ইএমআই-তে প্রভাব পড়ে। সুদের হার কমলে, ঋণের মেয়াদ অনেকটাই কমে যায়। সেই কারণেই মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের কাছে রেপো রেট গুরুত্বপূর্ণ।