Seikh Hasina Assets: হাসিনার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের তোরজোড়, কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ব্যালান্স থেকে জমি-বাড়ি, কী কী রয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নামে?
Sheikh Hasina Net Worth: হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ১৫.৩ বিঘা কৃষিজমি রয়েছে। টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজিপুর এবং রংপুরে এই জমিগুলি রয়েছে। গাজিপুর শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-টাঙ্গাইল হাইওয়ের পাশে মৌচাকের তেলিরচালা এলাকায় শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের একটি বাগানবাড়িও রয়েছে।

ঢাকা: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Seikh Hasina) গত বছরই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT)। একইসঙ্গে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার সেই সম্পত্তি কীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হবে, কোন সংস্থা এই কাজ করবে এবং বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি কীভাবে নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আর এই প্রসঙ্গেই নতুন করে উঠে এসেছে হাসিনার সম্পত্তির পরিমাণ (Seikh Hasina Assets)।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সাংবাদিকদের এই বিষয়ে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ আমিনুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, আইন ও বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সংস্থান রয়েছে। তবে গোটা প্রক্রিয়াটি কীভাবে কার্যকর হবে, তা সাধারণ আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তবে, পুরনো রায়েও বাজেয়াপ্ত করা যাবে সম্পত্তি? চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শুনানির সময় বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সামনে তোলা হয়েছিল এবং এই নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়ে গেলে তা পূর্ববর্তী রায়ের ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে। অর্থাৎ, ইতিমধ্যে যে সমস্ত রায়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেই নির্দেশ অনুযায়ীও পদক্ষেপ করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে কোনও আইনি বাধা নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, শেখ হাসিনার নিজের নামে ঠিক কত সম্পত্তি রয়েছে, যা বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব? ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির মালিকানাই বা কার নামে?
হাসিনার নামে কত টাকার সম্পত্তি?
২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। সেই সময় জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামায় নিজের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব দিয়েছিলেন তিনি।
হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার নিজের নামে বাংলাদেশি মুদ্রায় মোট ৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় তিন কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা। তাঁর হাতে নগদ ছিল ২৮ হাজার ৫০০ টাকা (বাংলাদেশি)। ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লক্ষ বাংলাদেশি টাকা।
এছাড়া, ২৫ লক্ষ টাকার (বাংলাদেশি) সেভিংস সার্টিফিকেট এবং ৫৫ লক্ষ টাকার (বাংলাদেশি) ফিক্সড ডিপোজিট বা FDR থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
তিনটি গাড়ি, সোনা ও আসবাব
নির্বাচনী হলফনামায় শেখ হাসিনা তিনটি মোটরগাড়ির কথাও জানিয়েছিলেন। তার মধ্যে একটি উপহার হিসাবে পাওয়া। সেই গাড়ির মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। বাকি দু’টি গাড়ির মোট মূল্য দেখানো হয়েছিল বাংলাদেশের হিসেবে ৪৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া, তাঁর কাছে ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু এবং ৭ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার আসবাব থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
কোথায় কোথায় জমি রয়েছে?
হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ১৫.৩ বিঘা কৃষিজমি রয়েছে। টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজিপুর এবং রংপুরে এই জমিগুলি রয়েছে। গাজিপুর শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-টাঙ্গাইল হাইওয়ের পাশে মৌচাকের তেলিরচালা এলাকায় শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের একটি বাগানবাড়িও রয়েছে।
১৯৭০ সালের আশপাশে স্থানীয় এক ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ওই জমি হস্তান্তর করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে উত্তরাধিকার সূত্রে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ওই জমির মালিক হন।
পরে তাঁরা জমির একাংশ সন্তানদের নামে হস্তান্তর করেন। ফলে জমির মালিকানার অংশ যায় শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদ এবং শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের নামে। নথি অনুযায়ী, ওই জমির পরিমাণ ২৯৭ ডেসিমেল বা প্রায় ৯ বিঘা।
শেখ হাসিনার নির্বাচনী হলফনামায় ঢাকার পূর্বাচলে একটি প্লটের উল্লেখ রয়েছে। তার মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৪ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা।
শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন পূর্বাচলে তাঁর নিজের পাশাপাশি ছেলে সজীব ওয়াজেদ, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের নামে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ হয়েছিল। অর্থাৎ, একই পরিবারের ছয় সদস্য মোট ৬০ কাঠা জমি পেয়েছিলেন।
টুঙ্গিপাড়ায় তিনতলা বাড়ি
হলফনামায় টুঙ্গিপাড়ার একটি সম্পত্তির কথাও জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তাঁর নিজের নামে আংশিক ৬.১০ ডেসিমেল জমি এবং সেখানে একটি তিনতলা বাড়ি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি কি হাসিনার নামে?
ভূমি দফতরের সূত্র অনুযায়ী, ঢাকার ঐতিহাসিক ৩২ ধানমন্ডির বাড়িটির মালিকানা শেখ হাসিনার নামে নেই। বাড়িটির মালিকানা রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে। অন্যদিকে, ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার বাসভবন ‘সুধা সদন’-এর মালিকানা তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের নামে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পাশাপাশি তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়।পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয় সরকারকে।
শুধু এই মামলাই নয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আরও কয়েকটি রায়েও অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশুলিয়ায় ছয় ব্যক্তিকে হত্যা এবং তাঁদের দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার মামলায় প্রাক্তন সাংসদ সাইফুল ইসলামের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
