
নয়া দিল্লি: নবাগতদের জন্য সুখবর। দেশের সবথেকে বড় তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (Tata Consultancy Services) ফ্রেশার নিয়োগ করতে চলেছে। সংস্থা জানিয়েছে, এই অর্থবর্ষে তারা ২৫ হাজার ফ্রেশার নিয়োগ করবে। এই খবরে নবাগত কলেজ পাশ যারা, তারা খুশি হলেও, তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন এক্সপার্টরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কেন?
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে টিসিএস মোট ২৫ হাজার নবাগত কর্মী নিয়োগ (Fresher Recruitment) করবে বলে ঘোষণা করেছে। তবে এটা গত অর্থবর্ষের তুলনায় অনেক কম। গত অর্থবর্ষে ৪৪ হাজার কর্মী নিয়োগ করেছিল টিসিএস। টানা তিন বছর ধরে প্রতি বছরই ৪০,০০০-এর বেশি ফ্রেশার নিয়োগ করছিল, কিন্তু এবার এই সংখ্যা কমিয়ে ২৫,০০০ করা হয়েছে। অর্থাৎ এ বছর অনেক কম নিয়োগ করছে টিসিএস।
তবে টিসিএস জানিয়েছে, আপাতত ২৫ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হলেও, পরে চাহিদা থাকলে ফের নিয়োগ করা হতে পারে। এই নিয়োগ এমন সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বব্য়াপী আইটি সেক্টরে বিপুল কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এখনও টালমাটাল পরিস্থিতি চলছে। নিজেদের ব্যয় ও নিয়োগ- দুই-ই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
টিসিএস-এর সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর কে কৃতিবাসন পিটিআই-কে জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে নিয়োগ সম্পূর্ণরূপে চাহিদার উপর নির্ভর করবে। প্রজেক্ট এবং গ্রাহকের চাহিদা বাড়লেই, তারা ফ্রেশার নিয়োগ বাড়াতে পারে। নবাগতরাই এখনও কোম্পানির অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছে।
যদিও কর্মী নিয়োগ কমেছে, টিসিএস স্পষ্ট করেছে যে ফ্রেশাররা কোম্পানির ব্যবসায়িক মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে থাকবে। কোম্পানি মনে করে যে ফ্রেশারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাজে লাগানো যায়, অন্যদিকে অভিজ্ঞ কর্মীদের নিয়োগ করলে তার পিছনে খরচ বেশি। একজন ফ্রেশারের একটি প্রকল্পে কাজ করার মতো সক্ষম হতে প্রায় নয় মাস সময় লাগে, কিন্তু কোম্পানি তবুও তাদের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
প্রসঙ্গত, গত বছর টিসিএস প্রায় ১২,০০০ কর্মী ছাঁটাই করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-র কারণেই এই ছাঁটাই হয়েছে। যদিও টিসিএস জানিয়েছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে নয়, বরং প্রকল্প পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।