
নয়া দিল্লি: দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন, কতটা স্থিতিশীল রয়েছে, তা নির্ভর করে দেশে কত সোনা মজুত রয়েছে, তার উপরে। জরুরি অবস্থায় তৈরি হলে, দেশকে সেই সঙ্কট থেকে উদ্ধার করতে সাহায্য করে স্বর্ণ ভাণ্ডার। বিশ্বজুড়ে প্রায় সমস্ত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি তাদের রিজার্ভ হিসাবে বিপুল সোনা মজুত রাখে।
সোনা দীর্ঘকাল ধরেই বিশ্ব অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকে সোনাকে সুরক্ষামূলক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে। অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সাহায্য করে সোনা। এছাড়া সম্পত্তি তৈরি বা সঞ্চয়ের উপায় হিসেবেও সোনায় বিনিয়োগ সেরা বলে গণ্য করা হয়। ভারতে সোনা শুধু একটি বিনিয়োগ নয়, এর গুরুত্ব আরও অনেক বেশি। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সোনার মার্কেট। বর্তমানে সবথেকে বেশি সোনা মজুত রাখা দেশের তালিকায় ছয় নম্বরে রয়েছে ভারত। কোন দেশ শীর্ষে রয়েছে জানেন?
চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সবথেকে বেশি সোনা রয়েছে আমেরিকার কাছে। তাদের রিজার্ভে মোট ৮১৩৩.৪৬ টন সোনা রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইটালি। তাদের মোট সোনা ভাণ্ডারের পরিমাণ ২৪৫১.৮৪ টন। এরপরই তৃতীয় স্থানে রয়েছে চিন। তাদের কাছে মোট ২৩৪৬.৪৩ টন সোনা মজুত রয়েছে।
এরপর ২২৮২.৯৮ টন সোনা নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে রাশিয়া। সুইজারল্যান্ড পঞ্চম স্থানে রয়েছে। তাদের কাছে ১০৩৯.৯৪ টন সোনা রয়েছে। ভারত ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। আমাদের দেশে মোট ৮৮০.৫১ টন সোনা রিজার্ভে রয়েছে।
এর পরেই রয়েছে জাপান। তাদের কাছে মোট ৮৪৫.৯৭ টন সোনা মজুত রয়েছে। অষ্টম স্থানে রয়েছে পোল্যান্ড, তাদের কাছে ৬৩২.৪৩ টন সোনা মজুত আছে। নবম স্থানে রয়েছে তুরস্ক। তাদের রিজার্ভে মোট ৫৩০.৬২ টন সোনা রয়েছে। দশম স্থানে রয়েছে উজবেকিস্তান। তাদের কাছে ৪৩১.৭১ টন সোনা মজুত আছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (WGC)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমস্ত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিই বিপুল পরিমাণে সোনা কিনছে। ২০২৬ সালের অগস্ট মাসে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি মোট ৩৯ টন সোনা কিনেছে।
বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সোনাকে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলে গণ্য করছে, তাই সোনার রিজার্ভ বাড়ানো হচ্ছে। তবে শুধু সরকারি রিজার্ভই নয়, ভারতের জনগণের কাছেও বিপুল পরিমাণ সোনা রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পরিবারগুলির কাছে মোট প্রায় ২৪,০০০ টন সোনা জমা আছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। মরগান স্ট্যানলির একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই সোনার মূল্য প্রায় ৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট জিডিপি-র প্রায় ৮৭.৮ শতাংশের সমান।