
কলকাতা : কোথাও বুথের ভিতর সিসিটিভি ঢেকে দেওয়ার অভিযোগ, কোথাও বিরোধী দলের এজেন্টদের বসতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। কলকাতার পুর নির্বাচন শুরু হওয়ার ঘণ্টা কয়েকের মধ্যেই এরকম একের পর এক অভিযোগে উত্তপ্ত শহর। এরই মধ্যে, বিজেপির দাবি, এখনও ফলাফল নিয়ে নিশ্চিত নয় তৃণমূল, তাই বিভিন্ন ভাবে বিরোধীদের শাসানি দেওয়া হচ্ছে। পরপর টুইট করে শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে এনেছেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বে থাকা বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। এ দিকে ভোট শেষ হওয়ার আগেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে বিজেপি।
ভোটের দিন সকালে টুইট করে অমিত মালব্য অভিযোগ করেছেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশ, প্রত্যেকটি সংস্থার অপব্যবহার করছে তৃণমূল। ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর। বিজেপি নেতার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল ভোটে জিততে এ সব করছে।
উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার ৯২ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন সুমন দাস। দিন কয়েক আগে অভিযোগ ওঠে, সুমন দাসের স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেয় কয়েকজন দুষ্কৃতী। এদের প্রত্যেকেই বহিরাগত বলে দাবি বিজেপি প্রার্থীর। অভিযোগ, ঢাকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড চত্বরে প্রচার করছিলেন বিজেপি প্রার্থী সুমন দাস। সেই সময় তাঁর বাড়ির সামনে চড়াও হয় বেশ কয়েকজন বহিরাগত। সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ৯২ নম্বর ওয়ার্ডের ওই বিজেপি প্রার্থীর স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এ দিন সেই অভিযোগ পত্রও পোস্ট করেছেন মালব্য।
শুধু তাই নয়, ৭ নম্বর ওয়ার্ড অর্থাৎ বাগবাজারের ঘটনার ভিডিয়ো ফুটেজ শেয়ার করে অমিত মালব্য অভিযোগ করেছেন, বিজেপি প্রার্থী ব্রজেশ ঝাকে হেনস্থা করেছে পুলিশ। এই বিষয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এর পিছনে কে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় নাকি ওনার ভাইপো?’
উল্লেখ্য, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায়। নির্দল প্রার্থী এ দিন তিনি নিজেই পোলিং এজেন্ট হিসেবে বুথে বসতে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁকে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি প্রার্থী ব্রজেশ ঝা আসেন ঘটনাস্থলে। তাঁর দাবি, তৃণমূল ছাপ্পা দিতে পারবে না বলেই অন্যান্য দলের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে যায় শ্যামপুকুর থানা ওসি। কোনও ক্রমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। বিজেপি প্রার্থী দাবি করেন, পুলিশ কলার ধরে বের করে দিচ্ছে অন্যান্য দলের প্রার্থীদের। জানা গিয়েছে, আজই একাধিক অভিযোগ নিয়ে, রাজ্য নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা।