
টাইগার শ্রফ (Tiger Shroff)-এর গাড়িতে আচমকা হামলা, আর তারপরই নতুন করে নিশানায় সলমন খান। বলিউডে এখন রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ। রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় টাইগারের গাড়িতে গুলি চালায় বাইকে আসা দুষ্কৃতীরা। অভিনেতা নিজে সুরক্ষিত থাকলেও, গুলি লাগে তাঁর চালক ও আরও একজনের গায়ে। ঘটনার পর মুম্বই থেকে ট্রেনে চেপে দিল্লিতে পালানোর ছক কষেছিল অভিযুক্তরা। কিন্তু রাজস্থানের কোটা স্টেশনেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে তিন শুটার।
শুনলে অবাক হবেন, বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতাকে টার্গেট করা এই তিন শুটারের বয়স মাত্র ১৭, ১৮ আর ২২ বছর! এদের মধ্যে ১৭ বছরের কিশোরটি নাবালক, তার বাড়ি হরিয়ানার সোনিপতে। ১৮ বছরের রেহানের নামে আগে থেকেই অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। আর ২২ বছরের হৃতিক কুমার ওরফে রোশন আদতে বিহারের বাসিন্দা হলেও, মুম্বইয়ের আন্ধেরিতে থেকে অ্যাপ ক্যাব চালাত। বাইক ট্যাক্সির আড়ালেই সে এই বড় চক্রান্তের জাল বোনে।
পুলিশ জানিয়েছে, টানা ১০ দিন ধরে টাইগারের জিম ও বাড়ির ওপর নজর রাখছিল তারা। সোশাল মিডিয়ায় পাপারাৎজিদের বিভিন্ন ভিডিয়ো দেখে অভিনেতার রুটিন বুঝে নিত এই তিনজন। আর গ্যাংয়ের মাথাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যাল অ্যাপের মাধ্যমে। সেখানেই তাদের কাছে হামলার জায়গার ম্যাপ পাঠানো হয়।
এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। শুটাররা ধরা পড়ার পরেই অনিল পণ্ডিত নামের এক গ্যাং সদস্য একটি অডিয়ো বার্তা সামনে এনেছে। নিজেকে লরেন্সের ছোট ভাই বলে দাবি করে সে বলিউডের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে। তার দাবি, বলিউডের অভিনেতারা নাকি দুবাইয়ে লুকিয়ে থাকা দাউদ ইব্রাহিমের টাকায় সিনেমা বানায়। আর সেই লাভের টাকা দিয়ে দাউদ ভারতে বোমা বিস্ফোরণ ও নেশার কারবার চালায়। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে সে প্রশ্ন তোলে, তখন প্রশাসন কী করছিল? নিজেদের ভগত সিংয়ের মতো দেশপ্রেমিক বলে দাবি করেছে সে।
সবথেকে ভয়ংকর হল সলমন খানকে দেওয়া সরাসরি হুমকি। ওই অডিয়োতে অনিলের সাফ কথা, “সলমন ক্ষমা না চাইলে কোনও ভাবেই ওর পিছন ছাড়ব না। শুধু সলমন নয়, ওর সঙ্গে যারা কাজ করে বা আশপাশে থাকে, তাদের সবাইকেই মারা হবে।” সলমন ক্ষমা চাইলে তবেই এই শত্রুতা মিটবে বলে জানিয়েছে সে। প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তার আরও দাবি, তাদের হাতে নাকি ৭০ হাজার শুটার আছে, যারা মুম্বইয়ে যেকোনও সময় বড় হামলা করতে পারে। এই ঘটনার জন্য সলমনের বান্দ্রার বাড়ির বাইরে কড়া পাহাড়া দেওয়ার জন্য নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।