৫০ কোটির মানহানি মামলা! কী ঘটেছে কুমার শানুর সঙ্গে?
কুমার শানু জানিয়েছেন, একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর কাছে তাঁর সম্মানই শেষ কথা। দিনের পর দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে চলা ট্রোলিং এবং অপপ্রচারের ফলে তাঁর পেশাদার জীবনেও এর প্রভাব পড়ছিল। ভক্তদের মনে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছিল।

নব্বইয়ের দশকের সেই কন্ঠস্বর, যাঁর জাদুতে আজও আট থেকে আশি বুঁদ হয়ে থাকে, সেই কুমার শানু এখন আইনি লড়াইয়ের ময়দানে। তবে এই লড়াই কোনও মিউজিক চার্ট নিয়ে নয়, বরং নিজের কয়েক দশকের অর্জিত সম্মান বাঁচানোর লড়াই লড়ছেন গায়ক। প্রাক্তন স্ত্রী তাঁর নামে ‘চরিত্রহনন’ এর অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এবার সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ‘মেলোডি কিং’। আর সেই যুদ্ধেই প্রাথমিক ভাবে জয়ী হলেন গায়ক। দিল্লির এক আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শানুর প্রাক্তন স্ত্রী এবং গুগল বা মেটার মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এমন কোনও তথ্য বা ভিডিয়ো প্রচার করতে পারবে না যা গায়কের ভাবমূর্তি নষ্ট করে।
কী নিয়ে শুরু হয় বিবাদ?
বিবাদের সূত্রপাত বেশ কিছুদিন আগে। শানুর অভিযোগ ছিল, তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী ডিজিটাল দুনিয়ায় তাঁর নামে নানা আপত্তিকর, কুরুচিকর এবং ভিত্তিহীন মন্তব্য করে চলেছেন। স্রেফ জনপ্রিয়তার জন্য তাঁর দীর্ঘ বছরের কেরিয়ার ও সামাজিক অবস্থানকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় শেষমেশ ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা ঠুকে দেন শানু। শুক্রবার আদালত এই মামলার গুরুত্ব বুঝে একটি অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। বিচারক সাফ জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রাক্তন স্ত্রী কুমার শানুর বিরুদ্ধে কোনও অবমাননাকর মন্তব্য করতে পারবেন না।
বর্তমানে সোশাল মিডিয়ায় করা কোনও অভিযোগ, বদনাম ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগে না। সেই কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন গায়ক। আদালত এই রায়ের মাধ্যমে এক প্রকার কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, বাক-স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যদি এমন কোনও আপত্তিকর কন্টেন্ট থাকে, তবে তা সরিয়ে ফেলা বা ব্লক করার বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত।
কুমার শানু জানিয়েছেন, একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর কাছে তাঁর সম্মানই শেষ কথা। দিনের পর দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে চলা ট্রোলিং এবং অপপ্রচারের ফলে তাঁর পেশাদার জীবনেও এর প্রভাব পড়ছিল। ভক্তদের মনে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছিল। আদালতের এই রায় গায়কের ইমেজ যে কিছুটা রক্ষা করেছে তা বলাই বাহুল্য। আপাতত আইনি কবচে সুরক্ষিত কুমার শানু। ভক্তরাও খুশি যে তাঁদের প্রিয় গায়কের পাশে আদালত দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার, এই আইনি লড়াই আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়।
