
আমির খান (Aamir Khan) অভিনীত ২০১৪ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘পিকে’ দেখেননি, এমন সিনেমা প্রেমী মেলা ভার। ভিনগ্রহ থেকে আসা এক এলিয়েনের চোখে সমাজের নানা অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় ব্যবসার গল্প ফুটিয়ে তুলেছিলেন পরিচালক রাজকুমার হিরানি। কিন্তু আপনি কি জানেন, বক্স অফিসে ঝড় তোলা এই সিনেমার গল্প শেষ মুহূর্তে বদলে দেওয়া হয়েছিল? হ্যাঁ, একদম ঠিক শুনছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ নিজেই ফাঁস করেছেন এই বিস্ফোরক তথ্য। তিনি জানিয়েছেন, ছবি মুক্তির ঠিক আগে তড়িঘড়ি করে বদলে ফেলা হয়েছিল ‘পিকে’-র সেকেন্ড হাফ বা দ্বিতীয় ভাগ। কিন্তু কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন নির্মাতারা?
আসল খটকা লেগেছিল অন্য একটি ছবিকে কেন্দ্র করে। আমির খান জানান, ‘পিকে’ সিনেমার শুটিং যখন প্রায় শেষ, ঠিক তখনই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় পরেশ রাওয়াল ও অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘ওএমজি: ওহ মাই গড’। আর এই ছবিটি দেখার পরেই কার্যত মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল পিকে টিমের। রাজকুমার হিরানি ও আমির লক্ষ্য করেন, ওএমজি-র মূল ভাবনার সঙ্গে তাঁদের ছবির দ্বিতীয় ভাগের বেশ কিছু বিষয়ের অদ্ভুত মিল রয়েছে।
যদিও দুটি সিনেমার গল্প সম্পূর্ণ আলাদা ছিল, তাও কিছু থিম বা সামাজিক বার্তা এক হয়ে যাওয়ায় দর্শকরা এটিকে ‘নকল’ ভাবতে পারতেন। আমির বলেন, “আমার মনে আছে রাজু (হিরানি) প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিল, মাঝে মাঝে এমনটা হয়ে যায়, তবে আমাদের অবশ্যই সিনেমার দ্বিতীয় ভাগটা বদলে ফেলতে হবে।” এর পরেই শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চিত্রনাট্য পরিবর্তনের কাজ।
আমির অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তাড়াহুড়ো করে ছবির দ্বিতীয় ভাগ নতুন করে তৈরি করায় মুক্তির আগে তাঁরা নিজেরাও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তবে সেই পরিস্থিতিতে এর চেয়ে ভালো কিছু করা সম্ভব ছিল না। যদিও ভাগ্য ভালো ছিল যে, দর্শকদের মনে ছবিটি জায়গা করে নেয় এবং বক্স অফিসে তুমুল সফলতা পায়।
ব্যর্থতাকে আমির কীভাবে দেখেন, সেই প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন অভিনেতা। তিনি জানান, ছবি ফ্লপ হলে তিনি অন্য কারও ওপর দোষ চাপান না, বরং ঠান্ডা মাথায় তা বিশ্লেষণ করেন। পরিচালকদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে ধাঁধার মতো মেলানোর চেষ্টা করেন যে ঠিক কোথায় ভুলটা রয়ে গেল। ‘পিকে’ ছবির ক্ষেত্রে সেই ভুল বা খামতি যাতে আগেভাগেই শুধরে নেওয়া যায়, সেই কারণেই এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন করা হয়েছিল।