AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

‘প্রযোজকদের শয্যাসঙ্গী না হলেই…’, ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে বিস্ফোরক অভিনেত্রী

‘কুমকুম ভাগ্য’ খ্যাত ২২ বছরের তরুণী সঞ্চিতা উগলের রহস্যমৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই সোশ্যালে বোমা ফাটালেন আঁচল। তীব্র ক্ষোভ ও যন্ত্রণা উগরে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, এই গ্ল্যামার দুনিয়ায় একজন শিল্পীর মানসিক বা শারীরিক স্বাস্থ্যের কোনও মূল্য নেই। এখানে টিকে থাকার শর্ত কেবল অনৈতিক আপস অথবা মুখ বুজে সব অত্যাচার সহ্য করা।

'প্রযোজকদের শয্যাসঙ্গী না হলেই...',  ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে বিস্ফোরক অভিনেত্রী
| Updated on: Jun 16, 2026 | 12:33 PM
Share

বিনোদন জগতের আলোঝলমলে পর্দার আড়ালে যে কতটা নোংরামি, অবহেলা আর অনৈতিক আপসের খেলা চলে, তা আরও একবার হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেখিয়ে দিলেন অভিনেত্রী আঁচল খুরানা। ‘কুমকুম ভাগ্য’ খ্যাত ২২ বছরের তরুণী সঞ্চিতা উগলের রহস্যমৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই সোশ্যালে বোমা ফাটালেন আঁচল। তীব্র ক্ষোভ ও যন্ত্রণা উগরে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, এই গ্ল্যামার দুনিয়ায় একজন শিল্পীর মানসিক বা শারীরিক স্বাস্থ্যের কোনও মূল্য নেই। এখানে টিকে থাকার শর্ত কেবল অনৈতিক আপস অথবা মুখ বুজে সব অত্যাচার সহ্য করা।

ভিডিওবার্তায় বিনোদন দুনিয়ার নির্মম প্রতিযোগিতার কথা তুলে ধরে আঁচল বলেন, “আরও একজন অভিনেত্রী আত্মঘাতী হল। কিন্তু এই চক্র কি থামবে? চ্যানেলের দরকার টিআরপি, প্রযোজক মরিয়া বাজেট বাঁচাতে, আর দর্শকদের চাই ভরপুর বিনোদন। কিন্তু এর মাঝে একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর ওপর দিয়ে কী ঝড় বয়ে যায়, তা কেউ ভাবে না।”

‘বোবার কোনো শত্রু নেই’—এই প্রবাদকে টেনে এনে আঁচল দাবি করেন, এই ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে পরিচিত শব্দ হল ‘রিপ্লেসমেন্ট’ বা বদলে দেওয়া। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, “আপনি যদি কারও শয্যাসঙ্গিনী হতে অস্বীকার করেন, নিজের আত্মসম্মান বাঁচাতে রুখে দাঁড়ান কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে তর্কে জড়ান—ব্যস! আপনাকে সঙ্গে সঙ্গে কাজ থেকে ছাঁটাই করে দেওয়া হবে। কিন্তু একজন শিল্পী যখন শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন, তখন এই নেপথ্যের কারণগুলো নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না।”

ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার দৈনন্দিন লড়াইয়ের এক হাড়হিম করা চিত্র তুলে ধরেছেন আঁচল। তিনি জানান, এখানে কাজ পাওয়ার চেয়ে রিজেকশন বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার হার অনেক বেশি। তাঁর কথায়, “আমরা প্রতিদিন সকালে একটা নতুন আশা নিয়ে ঘুম থেকে উঠি, অডিশন দিতে যাই। আর প্রতিটা রাত কাটে প্রত্যাখ্যানের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে। সবাই খুব সহজে জ্ঞান দেয়, মনের জোর বাড়াও। কিন্তু বাস্তবে বছরের পর বছর এই যন্ত্রণা কতদিন সহ্য করা সম্ভব?”

চ্যানেল ও প্রযোজকদের কেবল ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতির মানসিকতাকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন আঁচল। তিনি জানান, অনেক সময় দুর্দান্ত অডিশন দেওয়ার পরেও সামান্য কয়েকটা টাকার পারিশ্রমিক কমানোর জন্য দক্ষ শিল্পীদের বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। আর সবচেয়ে বড় অন্যায় হয় তখন, যখন কেউ কোনও অনৈতিক কুপ্রস্তাবে রাজি হন না।

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে আঁচল সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি নিজেও এই নোংরা পরিস্থিতির শিকার হয়েছি। তাই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যখনই মনে হবে হতাশা জীবনকে গ্রাস করছে, গ্ল্যামারের মায়া ত্যাগ করে বাড়ি ফিরে যান। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। আমিও প্রচণ্ড মানসিক চাপ আর উদ্বেগের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। মনে রাখবেন, বিপদের দিনে কোনও প্রযোজক বা চ্যানেল আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে না।”

সঞ্চিতার অকালমৃত্যু এবং তার পরপরই আঁচল খুরানার এই বিস্ফোরক বয়ান—টেলিভিশন দুনিয়ার ভেতরের অন্ধকারকে যেন পুরোপুরি নগ্ন করে দিল। এই গ্ল্যামারাস বিষাক্ত পরিবেশ থেকে তরুণ শিল্পীদের বাঁচানোর কোনও উপায় আদৌ তৈরি হবে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

Follow Us