
রাহুল বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মৃত্যুর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি টলিপাড়া। তাঁর মৃত্যুর পাঁচ দিন কেটে গেলেও, রাহুলের সহকর্মী, বন্ধুরা ভেসে রয়েছেন তাঁর প্রিয় বাবিনের স্মৃতিচারণাতেও। সঙ্গে গর্জে উঠছেন জাস্টিস ফর রাহুলের সুরে। আর ঠিক এই সময়ই রাহুলের দীর্ঘদিনের বন্ধু-সহকর্মী সন্দীপ্তা রাহুলকে নিয়ে লম্বা পোস্ট করলেন সোশাল মিডিয়ায়। সন্দীপ্তার লেখায় উঠে এল রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সন্তান সহজের কথাও।
কী লিখলেন সন্দীপ্তা?
রাহুলের স্মৃতি হাতড়ে সন্দীপ্তা লিখলেন, ”এতগুলো দিন কেটে গেল, এখনও ঠিক মেনে নিতেই পারছিনা, রাহুল আর নেই। রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি – অত্যন্ত ভালো মানুষ, বন্ধু, গুণী অভিনেতা, সহ-অভিনেতা, লেখক , কবি … ; এইরকম একজন মানুষ কে আমরা হারালাম। রাহুল-এর খুব প্রিয় একটা লাইন ছিল চন্দ্রবিন্দুর , ” আমরা কমতি পড়লে লোন দিই জন্মদিন “… প্রিয় লাইন যে এইভাবে সত্যি হয়ে যাবে , সেটা ভাবতেই পারিনি।”
সন্দীপ্তা আরও লিখলেন, ”আমরা প্রত্যেকে গভীরভাবে শোকাহত, খুব কাছের মানুষ চলে গেলে যে দুঃখ টা হয়, এটা ঠিক সেই অনুভূতি , আর এই মনখারাপের শুধু শুরু আছে, শেষ নেই। সব থেকে বেশি কষ্ট হয় পরিবারের সদস্যদের, কাছের মানুষদের। সেদিন কাকিমার সাথে দেখা করতে গেছিলাম। কত পুরোনো কথা, কত পুরোনো স্মৃতি, রাহুলের ছোটবেলার কথা, পছন্দের খাবার, বই, মায়ের সাথে কাটানো পুরোনো সময় গুলোর কথা …. কত কিছু নিয়ে কথা হল …. রাহুলের ঘর, নতুন জিম সেটআপ, রাহুলের বই, পোস্টারের কালেকশন সবটাই পরে রয়েছে ওর অপেক্ষায়…কুট্টুসের সাথে দেখা হলো, ঠিক চিনতে পেরেছে এতো বছর বাদে, ওর কষ্টটা বোধহয় সবচেয়ে বেশী, কাউকে বলতেও তো পারছেনা বেচারা …। ”
সন্দীপ্তার কথায়, ”কাকিমা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না, আদরের বাবিনকে হারিয়েছেন তিনি। খুব কষ্ট হচ্ছে দাদা-র কথা, বউরানি-র কথা, রাহুলের স্কুলের বন্ধুদের কথা, আত্মীয়দের কথা , বাবলুদা-র কথা , সহজের কথা আর অবশ্যই প্রিয়াঙ্কার কথা ভেবে।… এ যে কি ভয়ংকর কষ্ট সেটা আমি-আপনি বুঝতে পারবেন না। ছোট্ট সহজ, মাত্র ১৩ বছর বয়সে , বন্ধু-বাবাকে হারালো, এইটা বোঝা বা বোঝানোর ভাষা আমার কাছে নেই। আর প্রিয়াঙ্কা, নিজের মন শক্ত রেখে, এই অবস্থাতে একা হাতে মিডিয়া, পরিবার, কাজ সবটা সামলাচ্ছে। এরকম একটা সময়ে, এত খারাপ লাগার মধ্যে, আরও কষ্ট হয় যখন সোশাল মিডিয়ায় চোখ রাখি। সোশাল মিডিয়াতে মানুষরা যদি একটু সেন্সেবল হয়, সব বিষয়ে জাজ না করে, একটু নিরপেক্ষ ভাবে নিজেদের কষ্ট-যাপন করে, তাহলে মনে হয় আর কেউ না থাকুক, রাহুলের পরিবার , একটু ভালো, একটু শান্তিতে, একটু আড়ালে, নিজেদের মতো করে থাকতে পারে।”
সন্দীপ্তার ফেসবুক পোস্ট-
সন্দীপ্তার লিখলেন, ”আর আমরা তো প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা মানুষ, আলাদা আলাদা পার্সোনালিটি। আমাদের দুঃখ প্রকাশের ধরণ আলাদা আলাদা। কিন্তু সোশালমিডিয়া তে ঘটে চলা এই অস্বাভাবিক শুনানি, ভার্ডিক্ট, মাত্র ১৩ বছর বয়সী একটা বাচ্চা ছেলের সমাজ সম্পর্কে কী ধারণা তৈরি করতে পারে সেটা কি আমরা ভেবে দেখছি ? একটু বোঝার চেষ্টা আমাদের সবাইকেই করতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে আমাদের তো একটু সংবেদনশীল, একটু পরিণত হতে হবে। তবে এটাও সত্যি, গাফিলতি তো হয়েছেই, প্রপার, নিরপেক্ষ ইনভেস্টিগেশন দরকার। গাফিলতি ছাড়া তো এরকম ঘটনা ঘটতেই পারেনা। এখন শুধু সত্যিটা সামনে আসার অপেক্ষা। এই অপেক্ষার মাঝেই আমাদের কে খুঁজে নিতে হবে একটু ভালো থাকা। রাহুল তো নিজেই ভালো থাকার প্রতি বেশি ঝুঁকে থাকতো। কারও কাছে সে রাহুল, কারও কাছে অরুণোদয়, বাবিন, অরুণ ….. ভালো থাকুক রাহুল, তুমি মনে থাকবে চিরকাল …”।