
বলিউডের প্লেব্যাক সিংগিং থেকে অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)-এর আচমকা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনও মেনে নিতে পারছেন না তাঁর কোটি কোটি ভক্ত। চলতি বছরের শুরুতেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে গান ছাড়ার ঘোষণা করেছিলেন মুর্শিদাবাদের এই ভূমিপুত্র। কেরিয়ারের মধ্যগগনে এসে অরিজিতের এমন সিদ্ধান্তে তোলপাড় হয়েছিল গোটা ইন্ডাস্ট্রি। এবার সেই জল্পনা উসকে দিয়ে মুখ খুললেন প্রখ্যাত গায়ক ও সুরকার আদনান সামি। তবে কোনওরকম বিতর্ক নয়, বরং অরিজিতের এই কঠিন সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি সম্মান জানানোর পক্ষেই সওয়াল করলেন তিনি।
সম্প্রতি আদনান সামি তাঁর নতুন সিঙ্গল ‘লিপস্টিক লাগা কে নজর উতার লে’-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানেই সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে অরিজিতের অবসর প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। আদনান স্পষ্ট জানান, অরিজিতের এই পদক্ষেপ একেবারেই হঠকারী কোনও সিদ্ধান্ত নয়। এটি অত্যন্ত ভাবনাচিন্তা করেই নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ও প্লেব্যাক সিংগিং থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অরিজিতের সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, আমাদের উচিত তাঁকে সেই মানসিক জায়গা দেওয়া এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো।”
অরিজিৎ কেন গান ছাড়লেন, তা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে ফিসফাস কম নয়। মানসিক অবসাদ, কাজের প্রচণ্ড চাপ নাকি মিউজিক লেবেলগুলোর একাধিপত্য, কোন কারণে এই সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এই বিষয়ে আদনান বলেন, অরিজিৎ কাউকেই নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কারণ ব্যাখ্যা করতে বাধ্য নন। সময় এলে হয়তো গোটা বিশ্ব এমনিতেই জানতে পারবে। বলিউডে কাজের পরিবেশ এবং মিউজিক সংস্থাগুলির চাপ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ৫৪ বছর বয়সী এই প্রবীণ গায়ক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন।
আদনান জানান, বিভিন্ন মিউজিক লেবেলের নিজস্ব নিয়মকানুন থাকে। কিছু সংস্থা ভীষণ কঠোর হয়, আবার কিছু সংস্থা শিল্পীদের স্বাধীনতা দেয়। তবে শিল্পীদের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি আপনার কোনও নিয়ম পছন্দ না হয়, তবে কেউ আপনার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রাখেনি। সমস্যা তখনই তৈরি হয় যখন একজন শিল্পী নিজে থেকেই ভয় পেতে শুরু করেন যে কথা না শুনলে তিনি সমস্যায় পড়বেন। আসলে শিল্পীরা এই চাপটা নিজেদের ওপর নিজেরাই তৈরি করেন।”
অরিজিতের মতো একজন প্রতিভাবান শিল্পীর এভাবে সরে যাওয়া সংগীত দুনিয়ার জন্য এক মস্ত বড় ধাক্কা। তবে আদনানের এই মন্তব্য যেন মনে করিয়ে দিল, খ্যাতির আড়ালে থাকা মানুষটার মানসিক শান্তি সবকিছুর চেয়ে দামি।