
বলিউডের অন্যতম চর্চিত এবং জনপ্রিয় দম্পতি অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বর্য রাই বচ্চন। তাঁদের রসায়ন আর আভিজাত্য বরাবরই মুগ্ধ করে অনুরাগীদের। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে এই তারকা জুটিকে নিয়ে বলিপাড়ায় দানা বেঁধেছে নানা নেতিবাচক গুঞ্জন। বিশেষ করে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের খবর বার বার সোশাল মিডিয়ায় মাথাচাড়া দিচ্ছে। যদিও প্রায়শই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে হাজির হয়ে সেই জল্পনায় জল ঢেলেছেন এই দম্পতি। এই ডামাডোলের মাঝেই ঐশ্বর্যর একটি পুরনো সাক্ষাৎকার নতুন করে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি খোলসা করেছেন তাঁর ‘আদর্শ পুরুষ’-এর সংজ্ঞা।
বিয়ের আগে ‘রেডিফ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বর্য জানিয়েছিলেন, তাঁর হবু স্বামীকে হতে হবে এমন একজন, যিনি তাঁর প্রেমে পাগল থাকবেন। অভিনেত্রী বলেছিলেন, “আমার আদর্শ পুরুষকে আমার প্রেমে পাগল হতে হবে, কারণ এর কম কিছুতে আমি রাজি নই। আমি মনেপ্রাণে প্রচণ্ড রোমান্টিক, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমার জীবনসঙ্গীকে রোমান্সের শিল্পে পারদর্শী হতে হবে। ‘ফ্লার্ট’ বা চপলতা নয়, আমি খাঁটি রোমান্স খুঁজি। এছাড়া আমি আত্মমর্যাদা বা গাম্ভীর্য খুব পছন্দ করি। লোকদেখানো এই পৃথিবীতে এই গুণটি পাওয়া সত্যিই বিরল এবং অমূল্য।”
অভিষেক ও ঐশ্বর্যর প্রথম আলাপ হয়েছিল ‘ঢাই অক্ষর প্রেম কে’ ছবির সেটে। সেখান থেকেই বন্ধুত্বের শুরু। ২০০৬ সালে ‘উমরাও জান’ এবং ‘গুরু’ ছবির শুটিং চলাকালীন সেই বন্ধুত্ব প্রেমে রূপ নেয়। ২০০৭ সালের ২০শে এপ্রিল চার হাত এক হয় তাঁদের। ওপরা উইনফ্রের শো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিষেক জানিয়েছিলেন তাঁর সেই রূপকথার মতো প্রস্তাবের গল্প। অভিষেক বলেছিলেন, “নিউ ইয়র্কে একটি ছবির শুটিংয়ের সময় আমি হোটেলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে মনে মনে ভাবতাম, একদিন যদি ও আমার জীবনসঙ্গী হতো! কয়েক বছর পর ‘গুরু’ ছবির প্রিমিয়ারের জন্য আমরা আবার ওই একই হোটেলে ছিলাম। প্রিমিয়ার শেষ করে আমি ওকে ঠিক সেই ব্যালকনিতেই নিয়ে যাই এবং বিয়ের প্রস্তাব দিই।”
২০১১ সালের ১৬ই নভেম্বর অভিষেক-ঐশ্বর্যর কোল আলো করে আসে কন্যাসন্তান আরাধ্যা বচ্চন। রুপোলি পর্দাতেও এই জুটি উপহার দিয়েছেন ‘গুরু’, ‘ধুম ২’, ‘রাবণ’-এর মতো একাধিক মনে রাখার মতো সিনেমা।
সম্প্রতি মণীশ মালহোত্রার বাসভবনে শোক জ্ঞাপন করতেও একসঙ্গে দেখা গিয়েছে এই দম্পতিকে। ১৯শে মার্চ ফ্যাশন ডিজাইনারের মায়ের প্রয়াণের পর অভিষেক ও ঐশ্বর্য সশরীরে সেখানে হাজির হয়ে সমস্ত বিচ্ছেদ জল্পনার অবসান ঘটান। নেটিজেনদের মতে, এই পুরনো সাক্ষাৎকারটি বুঝিয়ে দেয় যে ঐশ্বর্য তাঁর সেই ‘আদর্শ পুরুষ’ অভিষেকের মধ্যেই খুঁজে পেয়েছিলেন।