
জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনের জেরে এবার রীতিমতো আইনি গেরোয় পড়লেন বলিউডের ‘সিংহম’। অজয় দেবগন (Ajay Devgn) হয়তো ভাবতেও পারেননি যে, একটা বিজ্ঞাপনে মুখ দেখিয়ে তাঁকে এমন বিপাকে পড়তে হবে। মহারাষ্ট্র সরকারের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (FDA) কড়া নোটিশ পেয়ে এবার চুপ করে বসে থাকলেন না তিনি। পাল্টা জবাব দিতে সোজা কড়া নাড়লেন বম্বে হাইকোর্টের দরজায়।
বিজ্ঞাপনে লুকিয়ে কোন গোলমাল?
টিভিতে দেখানো হয় ‘বিমল এলাচি’-র বিজ্ঞাপন। কিন্তু মহারাষ্ট্র সরকারের এফডিএ বলছে অন্য কথা। তাঁদের সোজা দাবি, এলাচির নাম করে টিভিতে আসলে ‘বিমল পান মশলা’-র প্রচার চালানো হচ্ছে। মহারাষ্ট্রে এই ধরনের তামাকজাত পান মশলা তৈরি করা, মজুত রাখা বা বিক্রি করা পুরোপুরি বেআইনি। সরকারের মতে, এই বিজ্ঞাপন ঘুরপথে সাধারণ মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। ২০০৬ সালের খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, খাবার নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো বড় অপরাধ। আর ঠিক সেই কারণেই তারকাদের কাছে পৌঁছেছে শো-কজ নোটিশ।
অজয়ের কড়া যুক্তি
তবে অজয় দেবগনও সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। সরকারি নোটিশ হাতে পেয়েই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর যুক্তি একদম পরিষ্কার। তিনি হাইকোর্টে জানিয়েছেন, তিনি শুধুমাত্র একজন অভিনেতা। তাঁকে দিয়ে অভিনয় করানো হয়েছে মাত্র। তাই এই নোটিশ তাঁর পাওয়ার কথা নয়। যে কোম্পানি এই পণ্য বানাচ্ছে, আসল নোটিশ তো তাদের পাওয়া উচিত! পিটিআই-এর খবর অনুযায়ী, আগামী ৪ নভেম্বর বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে।
বাদ যাননি শাহরুখ-টাইগারও
এই বিজ্ঞাপনের তালিকায় শুধু অজয় একা নন, রয়েছেন বলিউডের বাদশা শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan) এবং অ্যাকশন হিরো টাইগার শ্রফও। সরকার কাউকেই রেয়াত করেনি। শাহরুখের জুহুর বাংলো ‘মান্নাত’-এ এবং টাইগারের প্রোডাকশন অফিসেও পৌঁছে গিয়েছে একই নোটিশ। তবে এত জলঘোলা হলেও, শাহরুখ বা টাইগারের তরফ থেকে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য শোনা যায়নি।
কী হতে পারে আগামী দিনে?
সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে মহারাষ্ট্র সরকার এখন বেশ কড়া। খাদ্যে ভেজাল রুখতে, স্কুলের আশেপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি বন্ধ করতে এবং বেআইনি পান মশলার প্রচার রুখতে তারা রীতিমতো আটঘাট বেঁধে নেমেছে। এখন সবার নজর আদালতের দিকে। আগামী দিনে আদালত অভিনেতাদের যুক্তি মেনে নেয়, নাকি সরকারের কড়া পদক্ষেপই বহাল থাকে, সেটাই এখন দেখার!