
আজ ১১ অক্টোবর, বলিউডের ‘শাহেনশা’ অমিতাভ বচ্চনের (Amitabh Bachchan) জন্মদিন। আজ তাঁর হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির কথা শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। কিন্তু জানেন কি একটা সময় ছিল, যখন পকেটে কানাকড়িও থাকত না? প্রথম রোজগারের টাকা হাতে পেয়ে তিনি ঠিক কী করেছিলেন? ২০২৩ সালের ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৫’-র মঞ্চে বসে নিজের মুখেই সেই নস্টালজিক গল্প শুনিয়েছিলেন খোদ বিগ বি। জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে চলুন ফিরে দেখা যাক সেই পুরনো স্মৃতি।
বলিউডের ঝলমলে দুনিয়া তখন বহু দূরের স্বপ্ন। ১৯৬৮ সাল নাগাদ মুম্বই থেকে শত যোজন দূরে কলকাতায় এক বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন অমিতাভ। একবার নিজের ব্লগে কলকাতার সেই দিনগুলোর কথা মনে করে নস্টালজিক হয়ে পড়েন তিনি। জানান, আটজন বন্ধু মিলে ১০ বাই ১০ সাইজের একটা খুপরি ঘরে থাকতেন। মাস গেলে হাতে আসত মাত্র ১৬৪০ টাকা! পকেটে টান থাকলেও চোখে ছিল অনেক স্বপ্ন। পেট ভরে খাওয়ার মতো পয়সাও জুটত না সব সময়। তখন পরিচিত একজনের কথায় ভিক্টোরিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে ফুচকা খেয়েই খিদের জ্বালা মেটাতেন। শহরের নামী রেস্তোরাঁগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে ভাবতেন, একদিন কি এর ভেতরে ঢোকার সামর্থ্য হবে?
প্রথম পারিশ্রমিক নিয়ে কী বলেছিলেন তিনি?
কলকাতার সেই অভাবের দিনগুলো কাটিয়ে তিনি প্রথম সুযোগ পান ‘সাত হিন্দুস্তানি’ ছবিতে। কেবিসি-র মঞ্চে অমিতাভ জানান, এই প্রথম ছবির জন্য তিনি পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন ৫ হাজার টাকা। অবাক করার বিষয় হল, সেই টাকা হাতে পেয়ে নিজের কোনও শখ মেটানোর কথা তাঁর একবারও মনে হয়নি। মাথায় এসেছিল শুধু বাবা হরিবংশ রাই বচ্চন এবং মা তেজি বচ্চনের কথা।
অমিতাভ বলেন, “আমার মনে হয়, এখান থেকে যা পাব সবটাই বাবা-মা-কে দিয়ে দেব। তাঁদের নিজের কাছে এনে রাখার একটা রাস্তা পাওয়া গেল। জীবনভর তাঁরা সন্তানের জন্য যে কষ্ট করেছেন, এবার সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার সময় এসেছে।” অর্থাৎ, নিজের অভাব মেটানোর চেয়েও বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পাওনা ছিল।
১৯৬৯ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে একজন কবির চরিত্রে অভিনয় করে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নবাগত হিসেবে জাতীয় পুরস্কার জিতে নেন বিগ বি। অমিতাভ বচ্চন আজ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় আইকন। কিন্তু ফেলে আসা দিনের সেই লড়াই আর বাবা-মায়ের প্রতি তাঁর এই ভালোবাসার গল্প আজও সবার মন ছুঁয়ে যায়।