
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকে শুরু হওয়া সেই দীর্ঘ আইনি টানাপড়েনে কি অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চলেছেন রিয়া চক্রবর্তী? ২০২০ সাল থেকে যে ঝড়ের মুখে তিনি ও তাঁর পরিবার পড়েছিলেন, তাতে এবার যোগ হল এক নতুন মোড়। শনিবার মুম্বইয়ের বিশেষ আদালত একটি বড় নির্দেশ দিয়েছে, যা রিয়ার জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনসিবি-র (NCB) জন্য বেশ চাপের।
২০২০ সালে সুশান্তের রহস্যমৃত্যুর তদন্তে যখন মাদক যোগের কথা সামনে আসে, তখন এনসিবি তড়িঘড়ি রিয়া ও তাঁর ভাই শৌভিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ বা লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই পদক্ষেপের কোনও আইনি বৈধতা শেষ পর্যন্ত টিকল না। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এল এক মারাত্মক ভুলের কথা। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করলে ৩০ দিনের মধ্যে ওপরমহলের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এনসিবি সেই নিয়মটি মানেনি। আর এই আইনি ফাঁককেই কাজে লাগিয়ে জিতলেন রিয়া।
আদালতে কী ঘটেছে?
রিয়ার আইনজীবী দাবি করেন, নিয়ম না মেনে বছরের পর বছর একজনের জমানো টাকা আটকে রাখা পুরোপুরি বেআইনি। অন্যদিকে, সরকারি পক্ষ দাবি করেছিল যে রিয়া একটি বড় মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাই অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখা জরুরি ছিল। তবে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তের কারণ যাই হোক না কেন, নিয়ম না মানলে সেই কাজের কোনও দাম নেই। সঠিক সময়ে অনুমোদন না মেলায় রিয়ার অ্যাকাউন্টগুলো আটকে রাখার কোনও অধিকার এখন আর এনসিবি-র নেই।
রিয়া কি সত্যিই মুক্তি পেলেন?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, এই নির্দেশের পর রিয়া কি সব মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে গেলেন? আসলে বিষয়টি তা নয়। আদালত রিয়াকে মূল মাদক মামলা থেকে এখনই মুক্তি দেয়নি। আদালত শুধুমাত্র তাঁর এবং তাঁর ভাইয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলো ফের সচল করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই জয় রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘ ৬ বছর পর তিনি নিজের জমানো টাকা ব্যবহারের অনুমতি পেলেন।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার হওয়ার পর ২৮ দিন জেলে কাটাতে হয়েছিল রিয়াকে। তারপর জামিনে মুক্তি পেলেও আর্থিক ও সামাজিকভাবে তিনি কার্যত কোণঠাসা ছিলেন। আদালতের এই নতুন নির্দেশে লড়াইয়ের ময়দানে রিয়া কিছুটা অক্সিজেন পেলেন বলেই মনে করছেন অনেকে।