
মনামী ঘোষ (Monami Ghosh) বর্তমানে বিগ বসের ঘরে অন্যতম চর্চিত প্রতিযোগী। সম্প্রতি তাঁকে ঘিরেই এক সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এনেছেন মনামীর মা তমশা ঘোষ। বিগ বসের অন্দরমহলে মনামীর ওপর হওয়া আক্রমণ নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট দাবি, গেমের আড়ালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মনামীকে টার্গেট করা হচ্ছে।
এক সাক্ষাৎকারে তমশা দেবী জানান, বাড়িতে মনামী ঘরের কোনও কাজ না করলেও, বিগ বসের ঘরে তাকে বাসন মাজা থেকে রান্নার সব দায়িত্ব সামলাতে দেখা যাচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হলেও, মেয়ে যে ওখানে অনেক কিছু শিখছে তা নিয়ে তিনি গর্ববোধ করেন বলেও জানিয়েছেন।
তবে সম্প্রতি বিগ বসের একটি টাস্ক চলাকালীন ঘটা একটি ঘটনা নিয়ে তিনি অভিনেতা জিতু কমলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তমশা দেবীর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগেই একটি টাস্ক চলাকালীন মনামীকে ঘোড়া ধরে টানতে টানতে পুলের জলের মধ্যে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন জিতু। মনামী সাঁতার জানেন না। এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ও তো মনামীকে মেরেই ফেলত।” সেবারের মতো জিতু ক্ষমা চেয়ে নিলেও, সম্প্রতি পিরামিড ভাঙার টাস্কে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
তমশা দেবীর অভিযোগ, খেলার নিয়ম সরিয়ে রেখে জিতু সরাসরি বল দিয়ে মনামীর মুখ, কান ও পিঠে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকেন। এই আঘাতের কারণে নিরঞ্জনকে বরফও দিতে হয়। এই প্রসঙ্গেই মনামীর মা বলেন, “জিতু কমল একটা খুনি। ওকে মেন্টাল হাসপাতালে দেওয়া উচিত। ও চাইছিল মুখে মেরে মেরে চোখ, নাক, গাল সব ফাটিয়ে দিতে। ক্ষত করে রাখুক যাতে ও খেলতে না পারে।” এই গোটা ঘটনায় বিগ বস কর্তৃপক্ষের কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া নিয়েও তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন।
জিতু ছাড়াও বিগ বসের ঘরের অন্যান্য প্রতিযোগীদের নিয়ে ওই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট মতামত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মনামী স্ট্রং প্লেয়ার বলেই সকলে তাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। দুর্নিবারকে তিনি অত্যন্ত ‘বুদ্ধিমান ও চাপা’ স্বভাবের বলে উল্লেখ করেছেন। নন্দিনীর ভাষার সমালোচনা করেছেন তিনি। অন্যদিকে, তাঁর দাবি, রাজবীর নিজের বুদ্ধি দিয়ে ভালো খেললেও বর্তমানে সে পুরোপুরি জিতুর নির্দেশেই চলছে। ভরত কলও টিকে থাকার জন্য এখন মনামীর বিপক্ষেই খেলছেন বলে মনে করেন তমশা দেবী।
উইকএন্ডে ‘দাদার দরবার’-এ সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করবেন এবং কড়া পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি আশাবাদী। সমস্ত বাধা পার করে মনামী যেন শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে ট্রফি জেতে, সাক্ষাৎকারের শেষে সেই ইচ্ছাই প্রকাশ করেছেন তমশা ঘোষ।