
বিগ বস বাংলা (Bigg Boss Bangla)-র ঘরে এখন টানটান উত্তেজনা। একদিকে সৃজলা ও অনুষ্কার তুমুল ঝামেলায় পারদ চড়েছে। পরিবেশ বেশ থমথমে। ঠিক সেই সময়েই বিগ বসের এক ঘোষণায় বদলে গেল পুরো ছবি। ঝগড়া আর চিৎকারের বদলে প্রতিযোগীদের চোখে দেখা গেল জল।
বাইরের দুনিয়া থেকে একদম বিচ্ছিন্ন প্রতিযোগীরা। দীর্ঘদিন পরিবার বা প্রিয়জনদের কোনও খবর নেই তাঁদের কাছে। চার দেওয়ালের বন্দিদশায় মন ভারী প্রায় সবারই। এমন পরিস্থিতিতে বিগ বস প্রতিযোগীদের একটা নতুন টাস্ক দেন। জানানো হয়, প্রিয়জনদের উদ্দেশে তাঁরা চিঠি লিখতে পারবেন। এই সুযোগ পেয়ে আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি কেউই। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের লেখা চিঠি পড়ে শোনানোর সময় প্রায় প্রত্যেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তবে এই গোটা পর্বে নজর কেড়েছেন নন্দিনী। বাবা-মাকে লেখা চিঠি পড়তে গিয়ে ক্যামেরার সামনেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন অভিনেত্রী। বিগ বসের ঘরের কঠিন লড়াই আর মানসিক চাপের কথা চিঠিতে খুব সহজভাবে বলেছেন তিনি। কিন্তু দর্শকদের সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে চিঠির শেষে তাঁর একটি বিশেষ অনুরোধ।
কান্নাভেজা গলায় নন্দিনী তাঁর বাবা-মাকে একটি বিশেষ বার্তা দেন। তিনি বলেন, “তোমরা প্লিজ বাড়ির বাইরে গিয়ে অবশ্যই সৃজলার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করো। খেলার মাঝে যদি আমার কোনও ভুলের জন্য ওরা কষ্ট পেয়ে থাকে, তবে ওদের কাছে মন থেকে ক্ষমা চেয়ে নিও।” তুমুল প্রতিযোগিতার আবহে দাঁড়িয়ে সহ-প্রতিযোগীর পরিবারের প্রতি নন্দিনীর এই পদক্ষেপ নজর কেড়েছে দর্শকদের। সোশাল মিডিয়ায় একাংশ তাঁর এই সৌজন্যের প্রশংসা করেছেন। নেটিজেনদের অনেকেই মনে করছেন, খেলার বাইরে গিয়ে এমন কাজ একটি ইতিবাচক দিক।
বিগ বসের অন্দরে যখন এমন পরিস্থিতি, ঠিক সেই সময়েই বাইরের দুনিয়ায় নন্দিনীর জীবনে ঘটে গিয়েছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। বিগ বসের ঘরে বন্দি নন্দিনী এখনও জানেন না, তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষ, তাঁর প্রিয় ঠাকুমা মীরা দত্ত চিরবিদায় নিয়েছেন। বুধবার রাতে দীর্ঘদিন রোগে ভুগে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সোশাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করে এই দুঃখের খবর জানিয়েছেন নন্দিনীর বাবা সন্দীপ দত্ত। তিনি লেখেন, “মা চিরকালের মতো চলে গেলেন। নন্দিনী এখনও জানে না ওর প্রিয় ঠাকুমা আর নেই।” একদিকে খেলার চাপ, অন্যদিকে প্রিয় মানুষকে হারানোর শূন্যতা, সব মিলিয়ে বিগ বসের ঘরে নন্দিনীর আগামী দিনগুলো এখন এক নতুন মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।