
‘বিগ বস বাংলা’-র অন্দরমহলে ক্ষণে ক্ষণে বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ। একদিকে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি, অন্যদিকে ব্যক্তিগত ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি— সব মিলিয়ে ড্রামার পারদ এখন তুঙ্গে। সম্প্রতি শোর ভেতর অভিনেতা জীতু কামালকে কেন্দ্র করে চরম বচসায় জড়ালেন রাজবীর ও নন্দিনী। অশান্তি এতটাই চরম আকার নেয় যে রাজবীরকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দিয়ে বসেন নন্দিনী।
ঘটনার সূত্রপাত জীতুর সঙ্গে রাজবীরের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে রাজবীরকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন নন্দিনী— তিনি যদি জীতুর সঙ্গে যোগাযোগ বা বন্ধুত্ব রাখেন, তবে যেন তাঁর সঙ্গে আর সম্পর্ক না রাখেন। রাজবীরের উদ্দেশে নন্দিনী সরাসরি প্রশ্ন ছোড়েন, “জীতু আর আমার মধ্যে যেকোনও একজনকে বেছে নাও!” কিন্তু নন্দিনীকে চমকে দিয়ে রাজবীর সোজাসুজি জানিয়ে দেন, তিনি কাউকেই ছাড়তে পারবেন না। বিশেষ করে নন্দিনীর চাপের মুখে পড়ে জীতুর সঙ্গে বন্ধুত্ব ভাঙা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। রাজবীরের এমন জবাবে গভীরভাবে আহত হন নন্দিনী এবং তাঁর থেকে দূরত্ব তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। যদিও শেষ পর্যন্ত অভিমানের বরফ গলে এবং দুজনের মধ্যে আবারো মিটমাট হয়ে যায়।
তবে গৃহদাহ এখানেই শেষ নয়। ‘বিগ বস’-এর মূল লড়াইয়ে এদিন তুমুল বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন নন্দিনী ও অনুষ্কা ঘোষ। তরজার এক পর্যায়ে ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ করে বসেন অনুষ্কা। তিনি নন্দিনীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বাড়িতে তাঁর মা নিশ্চয়ই তাঁকে নিয়ে কোনও গর্ববোধ করেন না। পরিবারের সদস্য তুলে এমন কটূক্তিতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে যান নন্দিনী। তিনি পালটা জবাব দিয়ে বলেন, “তোমার ঘরেও তো বাবা-ভাই আছে, মনে হয় তুমিও তাঁদের কোনও সম্মান করো না!”
নন্দিনীর এই মন্তব্যে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তাঁর ব্যাগপত্র ও পোশাকআশাক টেনে হিঁচড়ে ছুড়ে ফেলে দেন অনুষ্কা। অনুষ্কার এমন অভব্য আচরণের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গেই সোচ্চার হন ঘরে থাকা জীতু কামাল ও রাজবীর। প্রবীণ অভিনেতা ভরত কলও অনুষ্কাকে সতর্ক করে জানান, এভাবে কারও পিতা-মাতাকে টেনে এনে কথা বলা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও অনুচিত।
কিন্তু তাতেও থামেনি উত্তেজনার পারদ। অনুষ্কার ওপর ক্ষোভ উগরে দিতে গিয়ে একপর্যায়ে জীতু ও রাজবীরের ওপরই চড়াও হন নন্দিনী। পরিস্থিতি হালকা করতে রাজবীর কিছুটা মজার ছলে কথা বলতে গেলে উলটে নন্দিনী তাঁকে ভুল বোঝেন। প্রচণ্ড রাগের মাথায় জীতু ও রাজবীর— দুজনকেই ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলে কটাক্ষ করেন নন্দিনী! জীতু এই অপমানে নীরবতা বজায় রাখলেও পরে ওয়াশরুম এরিয়াতে গিয়ে নন্দিনীকে শান্ত করেন রাজবীর।
রাজবীর নন্দিনীকে বুঝিয়ে বলেন, জীতু তাঁকে নিজের বোনের মতো স্নেহ করেন। পাশাপাশি অনুষ্কা যখন জামাকাপড় ছুড়ে ফেলছিলেন, তখন রাজবীরই যে প্রথম এগিয়ে এসে সব গুছিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন, সে কথাও নন্দিনীকে মনে করিয়ে দেন তিনি। জীতুকে ঘিরে নন্দিনী ও রাজবীরের মধ্যে আবারও সামান্য বচসা তৈরি হলেও, শেষমেশ পুরোনো বোঝাপড়ায় ফিরে আসেন তাঁরা।