
বিগ বসের অন্দরে এখন তুমুল উত্তেজনা। খেলা যত এগোচ্ছে, প্রতিযোগীদের সমীকরণ তত পাল্টাচ্ছে। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া একটি মারাত্মক ঘটনা। টাস্ক করতে গিয়ে এমন এক বিপত্তি ঘটে, যার জেরে চিরতরে এক বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারতেন প্রতিযোগী সৃজলা গুহ। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে, ঘটনার পর প্রকাশ্যে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় আরেক প্রতিযোগী নন্দিনীর পরিবারকে। এবার এই গোটা বিষয় নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন সৃজলার দিদি লিমা।
কী বলেছেন তিনি?
আঘাতের গভীরতা নিয়ে লিমা সরাসরি জানান, “মা হবার ক্ষমতা যেতে পারত, সেটাও কিন্তু একচুয়ালি অনেকটাই পসিবিলিটি ছিল। ১৯-২০-র জন্য হয়নি, কিন্তু সত্যি হতে পারত। এটা কোনও ভুল ইনফরমেশন সৃজলা দেয়নি, অনেকটাই চোট পেয়েছে ও।” এই ঘটনার পর নন্দিনীর বাবা-মা প্রকাশ্যে হাত জোড় করে সৃজলার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এই প্রসঙ্গে লিমা জানান, নন্দিনীর বাবা-মা অত্যন্ত সম্মানী এবং গুরুজন। তাঁদের এই পদক্ষেপের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তবে একই সঙ্গে লিমার স্পষ্ট জবাব, “ক্ষমা চেয়েছেন তার জন্য খুবই গ্রেটফুল। কিন্তু ক্ষমাও করে দিই যদি, ভোলাটা সম্ভব হয় না। সৃজলার বিশ্বাসটা চলে গিয়েছে নন্দিনীর ওপর থেকে।”
চোট পাওয়ার পর সৃজলার কাছে বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই পথ বেছে নেননি অভিনেত্রী। বোনের এই ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে দিদি জানান, সৃজলা জন্মগত ফাইটার। তাই বাড়ি ফিরে আসার সুযোগ থাকলেও সে লড়াই করার পথ বেছে নিয়েছে। লিমার কথায়, “ওখানে যেরকমভাবে ও কামব্যাক করেছে, ভাবিনি ওরকমভাবে কামব্যাক করবে।”
অন্যদিকে, দর্শকদের একাংশ মনে করেন সৃজলার মধ্যে কিছুটা অহংকার রয়েছে। এই সমালোচনার জবাবে লিমা সাফ জানিয়েছেন, সৃজলার কোনও মুখোশ নেই। সে বরাবরই কম কথা বলে, আর সেটাই অনেকে ভুল বোঝেন। তাঁর মতে, সৃজলার মনে যা থাকে, মুখেও তাই থাকে।
প্রথমদিকে নিরঞ্জনকে অনেকটা মানসিক সাপোর্ট দিয়েছিলেন সৃজলা। কিন্তু সেই নিরঞ্জনের হঠাৎ বদলে যাওয়াও হতাশ করেছে লিমাকে। আপাতত বিগ বসের ঘরে ফিজিয়োথেরাপি এবং চিকিৎসার মধ্যে দিয়েই নিজের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সৃজলা। বিগ বসের ঘরে কখন কে কার বন্ধু হবে, আর কে শত্রু, তা আগে থেকে বলা কঠিন। তবে এই ঘটনার পর সমীকরণ যে অনেকটাই বদলে গিয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। চোট নিয়েই ময়দানে টিকে রয়েছেন অভিনেত্রী। দর্শকরাও এখন সেদিকেই তাকিয়ে। শেষ পর্যন্ত এই লড়াইয়ে টিকে থেকে ট্রফি কে ছিনিয়ে নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।