
দিন যত এগোচ্ছে, ‘বিগ বস’-এর ঘরে ততই পারদ চড়ছে। এই রিয়্যালিটি শো-এর অন্যতম চর্চিত বিষয় হল রাজবীর এবং নন্দিনীর সম্পর্ক। তাঁদের কেমিস্ট্রি যেন দিন দিন আরও মজবুত হচ্ছে। কখনও মান-অভিমান, আবার কখনও খুনসুটি, কখনও আবার মাখো মাখো প্রেম সব মিলিয়ে বেশ জমে উঠেছে তাঁদের রসায়ন। টুকটাক ঝগড়া হলেও, খুব তাড়াতাড়ি তা মিটেও যায়। একবার রাজবীর বলেও ছিলেন যে তাঁর সঙ্গে নন্দিনীর যতই ঝামেলা হোক সেটা রাতেই মিটে যায়। কিন্তু এবার তাঁদের এই জমাট প্রেমে যেন প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিলেন নতুন ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি অভিনেতা সৌরভ দাস।
কী বলেছেন তিনি?
গত বৃহস্পতিবারের পর্বে এক নতুন ঘটনার সাক্ষী থাকল দর্শক। সৌরভ সরাসরি নন্দিনীকে একটি প্রশ্ন করে বসেন। তিনি জানতে চান, যদি শো চলাকালীন রাজবীরের সঙ্গে তাঁর কোনও বড় ঝামেলা হয়, দূরত্ব বাড়ে, সম্পর্কে ফাটল ধরে তবে তিনি কী করবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে নন্দিনী বেশ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গেই জানান, তিনি নিজের গেম খেলবেন। কিন্তু নন্দিনীর এই উত্তর মেনে নিতে পারেননি রাজবীর। তিনি তড়িঘড়ি প্রতিবাদ করে ওঠেন। রাজবীরের স্পষ্ট দাবি, তাঁদের সম্পর্ক কখনও ভাঙার নয়। তাই এই ধরনের অবান্তর আলোচনা করার কোনও মানেই হয় না।
অন্যদিকে, ‘বিগ বস’-এর বাড়িতে টিকে থাকতে গেলে যে শুধু ফ্যানবেস বা জনপ্রিয়তাই শেষ কথা নয়, তা আবারও প্রমাণ হচ্ছে। এখানে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক চাল দেওয়া। কখন চুপ থাকতে হবে আর কখন নিজের অবস্থান কড়া ভাবে জানাতে হবে, সেটাই হল আসল খেলা। আর এই খেলাতেই যেন এবার বাজিমাত করছেন নিরঞ্জন। একটা সময় গেমে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকি খোদ দাদার কাছেও সতর্ক হতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই নিরঞ্জনই কি এখন বিগ বসের ঘরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী খেলোয়াড় হয়ে উঠছেন? পরিস্থিতি কিন্তু সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, বিগ বসের ঘরে লাক্সারি টাস্কের কয়েন চুরিকে কেন্দ্র করে দুর্নিবার সাহা ও রাজবীর দের মধ্যে রীতিমতো হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। তনুশ্রী কয়েন সরিয়ে নেওয়ায় এই ঝামেলার সূত্রপাত। সকালে দেরিতে ওঠা নিয়ে রাজবীরের কটাক্ষের জেরে চরমে ওঠে অশান্তি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসেন অন্যান্য প্রতিযোগীরা। এই ঘটনায় কড়া শাস্তি পান দুর্নিবার। তাঁর ক্যাপ্টেনের পদ কেড়ে নেওয়া হয় এবং আগামী দু’সপ্তাহের জন্য ক্যাপ্টেন হওয়ার সুযোগও হারান তিনি। তবে এখানেই শান্ত হয়নি পরিস্থিতি। বিগ বসের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাইক খুলে ফেলেন রাজবীর। রাগে ফেটে পড়া রাজবীরকে শেষ পর্যন্ত শান্ত করেন নন্দিনী। আগামী দিনে এই বিদ্রোহ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।