
ববি দেওল (Bobby Deol)-কে আজ নতুন প্রজন্মের দর্শকেরা চেনেন ‘অ্যানিম্যাল’ ছবির সেই ভয়ঙ্কর খলনায়ক হিসেবে। কিন্তু একটা সময় এমন ছিল, যখন এই অভিনেতার পায়ের তলা থেকে মাটি প্রায় সরে গিয়েছিল। ইন্ডাস্ট্রির জৌলুস হারিয়ে অবসাদের অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসে নিজের জীবনের সেই কঠিন লড়াই এবং বলিউড ‘ভাইজান’ সলমন খানের দেবদূতের মতো এগিয়ে আসার গল্প শোনালেন ববি।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ববি দেওলের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া হলেও, ২০১৮ সালের আগে পরিস্থিতি একেবারেই উল্টো ছিল। নব্বইয়ের দশকের এই চকোলেট বয়কে ততদিনে নতুন প্রজন্মের দর্শক প্রায় ভুলতেই বসেছিল। ববি নিজেই অকপটে স্বীকার করেছেন, “একটা সময় আমার মনে হচ্ছিল, নতুন জেনারেশন হয়তো ববি দেওল বলে কাউকে চেনেই না। আমার অস্তিত্বটাই মুছে যাচ্ছিল।” ঠিক সেই চরম হতাশার মুহূর্তে তাঁর ফোনে ভেসে ওঠে একটি পরিচিত নাম, সলমন খান।
সলমন ববিকে ফোন করে সোজা সাপটা ভাষায় জিজ্ঞেস করেন, ‘শার্ট উতারেগা মামু?’ অর্থাৎ ছবিতে সলমনের সঙ্গে খালি গায়ে স্ক্রিন শেয়ার করতে হবে। কেরিয়ারের খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা ববি আর এক মুহূর্তও ভাবেননি। তিনি তৎক্ষণাৎ উত্তর দেন, সলমনের ছবির জন্য তিনি যে কোনও কিছু করতে রাজি আছেন। এভাবেই সলমনের হাত ধরে ‘রেস ৩’ ছবিতে এন্ট্রি ঘটে তাঁর। ববি জানতেন, সলমন খানের ছবি কোটি কোটি মানুষ দেখতে সিনেমা হলে যাবেন। আর সেই সুযোগেই নতুন প্রজন্মের কাছে আবার নিজেকে প্রমাণ করার একটা বড় মঞ্চ পেয়ে যান তিনি।
‘রেস ৩’ বক্স অফিসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও, ববির কেরিয়ারের চাকা এর পর থেকেই ঘোরে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ঝা-র ‘আশ্রম’ ওয়েব সিরিজে তাঁর অভিনয় দারুণ প্রশংসিত হয়। তবে কেরিয়ারের আসল ‘টার্নিং পয়েন্ট’ আসে সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ‘অ্যানিম্যাল’ ছবির হাত ধরে। শান্ত অথচ হিংস্র এক ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি লাইমলাইটে চলে আসেন। এরপর ‘দ্য বাস্টার্ডস অফ বলিউড’ বা ‘হরি হর বীরা মল্লু’-র মতো একের পর এক বড় প্রজেক্টে কাজ করেছেন। আগামী দিনে অনুরাগ কাশ্যপের ‘বান্দর’ ছবিতেও এক চমকপ্রদ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। সলমন খানের সেই একটা ফোন যে ববির কেরিয়ারকে নতুন জীবন দিয়েছিল, তা আজ বলিউড ইতিহাসের অন্যতম সেরা কামব্যাক স্টোরি।