শুটিং করতে গিয়ে পুড়ে যায় ত্বক, তারপর সেই চেহারাতেই বাধ্য হয়ে এই কাজ করেছিলেন বিক্রান্ত
Vikrant Massey: নিজেকে একজন সু-অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জীবনে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল অভিনেতা বিক্রান্ত মসিকে। যাত্রা এক্কেবারে সহজ ছিল না। বিক্রান্ত বরাবরই একজন দক্ষ বিনোদন কর্মী। অভিনয় করেছেন দাপটের সঙ্গে। অভিনয় করতে গিয়ে ত্বক পুড়ে যায় তাঁর। তারপর ঘটে এই ঘটনা।

বিক্রান্ত মসি। অত্যাধিক প্রতিকূলতার মধ্য়ে বড় হয়েছেন ভারতের বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির এক নিরলস কর্মী হয়। কাজ করেছেন এক্কেবারে ছোট্ট বয়স থেকে। সিরিয়ালে অভিনয় দিয়ে শুরু করেছিলেন অভিনয় কেরিয়ার। তারপর থেকে কেবলই লড়াই করে যেতে হয়েছে অভিনেতাকে। একটা সময়ে দিনে লাগাতারভাবে বিরামহীন অবস্থায় অভিনয় করে গিয়েছেন টানা ১১০ ঘণ্টা। কোনও ব্রেক নিতেন না বিক্রান্ত। বাড়িও ফিরতেন না। স্টুডিয়োটাই ছিল তাঁর ঘরবাড়ি।
অডিশনে যেতেন যখন দেখতেন, নতুন অভিনেতারা পরীক্ষা নিচ্ছেন তাঁর। তাঁদের উপর ভরসাও করতে পারতেন না তুখোড় অভিনেতা। পায়ের তলার মাটি একটু শক্ত হতেই পরিচালকদের অনুরোধ করে নিয়ে আসতেন তাঁর অডিশন দেখার জন্য। সেই বিক্রান্ত মসি সদ্য জিতে নিয়েছেন ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। সেরা সম্ভাবনাময় অভিনেতা হিসেবে জিতে নিয়েছেন দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কারও।
‘১২ ফেল’ ছবিতে অভিনয় করার জন্য এসেছে তাঁর এই পুরস্কারের প্রাপ্তি। ছবিতে চম্বলের গরিব মনোজ শর্মার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিক্রান্ত। যে মনোজ পরবর্তী সময়ে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইপিএস অফিসার হয়েছিলেন। বাস্তবের আইপিএস অফিসার মনোজ কুমার শর্মার জীবনকে পর্দায় তুলে ধরেছিলেন তিনি। সেই চরিত্রটার সঙ্গে বাস্তব জীবনের মনোজের জীবন কোথাও যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে।
এই ছবিতে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন বিক্রান্ত। তাঁর চেহারায় ফুটিয়ে তুলতে হত দ্বাদশ শ্রেণির চেহারার এক যুবককে। তাই ওজন কমিয়েছিলেন অনেকটাই। কড়া রোদে মেহনত করতেন। তা করতে গিয়েই বিক্রান্তের চামড়া পুড়ে যায়। সেই পুড়ে যাওয়া চামড়া দেখে ছবির পরিচালক বিধু বিনোদ চোপড়া আনন্দে আটখানা হয়ে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, “এ তো সাপে বর হল। এটাই তো চেয়েছিলাম আমি।” তারপর সেই রোদে পুড়ে যাওয়া চেহারা নিয়েই অভিনয় করেছিলেন বিক্রান্ত। সকলের মন জয় করে নিয়েছিলেন তিনি।
