
বাইরে থেকে দেখলে ভক্তদের মনে হত এক রূপকথার জীবন। স্বামী, সন্তান আর বিদেশের বিলাসবহুল জীবন নিয়ে সেলিনা জেটলি যেন ছিলেন সুখে সংসার কাটাতেন বলেই মনে করতেন সকলে। কিন্তু পর্দার পেছনে থাকা তাঁর অন্ধকার জীবনের গল্প শিউরে ওঠার মতো। দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্যে প্রতিমুহূর্তে সইতে হয়েছে নির্যাতন। সম্প্রতি অভিনেত্রী নিজেই সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন সেই যন্ত্রণার কথা। কেন একজন শিক্ষিত এবং সফল নারী হয়েও তিনি বছরের পর বছর এই অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করলেন? সেই কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সেলিনা।
কেন থেকে গিয়েছিলেন সেলিনা?
সেলিনা জানিয়েছেন, গার্হস্থ্য হিংসা কখনও হুট করে শুরু হয় না। এর শুরুটা হয় খুব সুন্দর ভাবে- ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি আর অতিনির্ভরশীলতা দিয়ে। তিনি বলেন, “আঘাতের পর যখন ক্ষমা চাওয়া হয়, তখন মনে হয় সব ঠিক হয়ে যাবে। এই আশাটুকুই নেশার মতো কাজ করে।” মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার ফলে একটা সময় নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। সেলিনার কথায়, প্রথমবার আঘাত পেলে মানুষ অবাক হয়, বারবার হলে বিভ্রান্ত হয়, আর বারবার একই ঘটনা ঘটলে সেটাকেই ‘স্বাভাবিক’ বলে মেনে নিতে শুরু করে। আমাদের সমাজে বৈবাহিক সম্পর্ককে এতটাই পবিত্র মনে করা হয় যে, অনেক সময় মহিলারা ভাবেন তাঁরা নিজেদের ভালোবাসা দিয়ে সব ঠিক করে দেবেন। কিন্তু বাস্তবে সেটা ঘটে না।
গত বছরের নভেম্বরে অস্ট্রিয়ান হোটেল ব্যবসায়ী স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে মুম্বইয়ের আন্ধেরি আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন সেলিনা। তাঁর অভিযোগ, পিটার তাঁকে না জানিয়েই ভিয়েনার সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি বিচ্ছেদের পর সেলিনা যাতে কোনও খোরপোশ না পান, তার জন্য অস্ট্রিয়ার আদালতেও মামলা লড়ছেন পিটার।
সেলিনার আইনজীবী জানিয়েছেন, অভিনেত্রী তাঁর তিন সন্তানের পূর্ণ হেফাজত চেয়েছেন। বর্তমানে তাঁর শিশুরা অস্ট্রিয়ায় তাদের বাবার সঙ্গেই রয়েছে। মাসিক ১০ লক্ষ টাকা খোরপোশ এবং উপার্জনের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ কোটি টাকা দাবি করেছেন তিনি। ২০১০ সালে বিয়ের পর সেলিনা পুরোপুরি সংসারি হয়ে গিয়েছিলেন, যার ফলে তাঁর কেরিয়ারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
একদিকে সন্তানদের হারানো আর অন্যদিকে আইনি লড়াই— সেলিনা এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন। এই পরিস্থিতিতে পড়ার আগেই যাতে মহিলারা বেড়িয়ে আসতে পারেন সেই বার্তাই দিয়েছেন সেলিনা।